Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

পদের মোহ না কি সংবিধানকে চ্যালেঞ্জ? বিধানসভা ভেঙে গেলেও কেন সরছে না ‘মুখ্যমন্ত্রী’ পরিচয়?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন এক সাংবিধানিক সংকটের সাক্ষী থাকছে বাংলা। বিধানসভা ভেঙে গেছে, মন্ত্রিসভার আর কোনো অস্তিত্ব নেই—আইনত এই মুহূর্তে রাজ্যে কোনো ‘মুখ্যমন্ত্রী’ নেই। অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) এবং ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে গেলে দেখা যাচ্ছে এক অদ্ভুত ছবি। সেখানে এখনও বড় বড় অক্ষরে জ্বলজ্বল করছে ‘Chief Minister, West Bengal’।

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, বিধানসভা ভেঙে যাওয়ার সাথে সাথেই মন্ত্রিসভাও বিলুপ্ত হয়। যতক্ষণ না নতুন নির্বাচন বা কোনো বিকল্প সাংবিধানিক ব্যবস্থা পাকাপোক্ত হচ্ছে, ততক্ষণ পুরনো পদের ব্যবহার কেবল অনৈতিক নয়, বরং বিভ্রান্তিকরও বটে। নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, এটা কি শুধুই টেকনিক্যাল ভুল, না কি পদের প্রতি অদম্য মোহ?

তৃণমূল নেত্রীর এই অনড় অবস্থান নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। বিজেপির দাবি, যারা সারাক্ষণ সংবিধান বাঁচানোর ডাক দেয়, তারা নিজেরাই আজ সংবিধানকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের চেয়ারটি যখন আর নেই, তখন ডিজিটাল দুনিয়ায় সেই পরিচয় ধরে রাখা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার শামিল। অনেকে বলছেন, রাজ্যপালের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করতেই কি এই ‘মুখ্যমন্ত্রী’ তকমা আঁকড়ে থাকা?

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সৌজন্যবোধ এবং নিয়ম মেনে চলাই দস্তুর। যখন একজন জনপ্রতিনিধি আর সেই পদে থাকেন না, তখন স্বতঃস্ফূর্তভাবেই পরিচয় বদলে ফেলা উচিত। কিন্তু তৃণমূল নেত্রীর ক্ষেত্রে সেই সৌজন্যের দেখা মিলছে না। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অন্দরে যে ‘ব্যক্তিপুজো’ চলে, তারই প্রতিফলন এই সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলগুলো।

এখন প্রশ্ন হলো, আইনি মারপ্যাঁচে রাজ্য প্রশাসন যখন টালমাটাল, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘ডিজিটাল একনায়কতন্ত্র’ কতদিন চলবে? বাংলার মানুষ কি এই অসংবিধানিক পরিচয়কে মুখ বুজে মেনে নেবে, না কি শীঘ্রই নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপে এই বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে?

Exit mobile version