Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

পয়মন্ত সকাল! যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কপাল খুলল প্রাক্তন ক্রিকেটারের, নেপথ্যে বড় কোনো ডিল?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
রাজনীতিতে আসা মাত্রই কপাল খুলে গেল বাংলার প্রাক্তন পেসার শিবশংকর পালের। মঙ্গলবার সকালেই তৃণমূল ভবনে গিয়ে ঘাসফুল শিবিরের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। আর সেই বিকেলেই বাজিমাত! মমতার ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় ঠাঁই পেয়ে গেলেন এই ক্রিকেটার। রাজনীতির ময়দানে নামতে না নামতেই এমন ‘রকেট গতিতে’ উত্থান দেখে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। প্রশ্ন উঠছে, এই ঝটিকা যোগদানের নেপথ্যে কি আগে থেকেই কোনো বড় মাপের ‘ডিল’ চূড়ান্ত হয়েছিল? অনেকে বলছেন, এটা আকস্মিক যোগদান, না কি চিত্রনাট্য মাফিক চাল?

সাধারণত কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় লড়াই-আন্দোলন করতে হয় প্রার্থী হওয়ার জন্য। কিন্তু শিবশংকর পালের ক্ষেত্রে নিয়ম যেন ভিন্ন। সকালেই পার্থ ভৌমিক এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের হাত থেকে তৃণমূলের উত্তরীয় পরা এবং বিকেলেই টিকিট পাওয়া—পুরো বিষয়টিই যেন বলিউডি সিনেমার চিত্রনাট্যের মত সাজানো। বিজেপির দাবি, এটা কোনো স্বাভাবিক রাজনৈতিক ঘটনা নয়। বরং অভিজ্ঞ নেতাদের বঞ্চিত করে কেন একজন ‘অনভিজ্ঞ’ নতুন সদস্যকে সঙ্গে সঙ্গে টিকিট দেওয়া হলো, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন।

বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, তৃণমূল এখন জনপ্রিয় মুখ ধার করে ভোট বৈতরণী পার হতে চাইছে। দলের পুরনো কর্মীদের কোনো দাম নেই। বিজেপির পক্ষ থেকে টিপ্পনি কেটে বলা হচ্ছে, “তৃণমূলে যোগ দেওয়া মানেই বুঝি এখন জ্যাকপট জেতা! সকালে যোগ দেবেন আর বিকেলে নাম উঠবে তালিকায়। টিকিট কি তবে এখন নিলামে উঠছে?” শিব শংকরের মত একজন খেলোয়াড়কে কেন তড়িঘড়ি প্রার্থী করতে হলো, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন গেরুয়া সমর্থকরাও। নেপথ্যে কি বড় কোনো ডিল?

প্রশ্ন উঠছে, কেন একজন প্রাক্তন ক্রিকেটারকে নিয়ে এত তাড়াহুড়ো? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, নির্দিষ্ট কোনো ভোটব্যাংক বা গ্ল্যামারকে হাতিয়ার করতেই এই পদক্ষেপ। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, কোনো বড় অঙ্কের লেনদেন বা গোপন সমীকরণ ছাড়া কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই ধরণের ‘ম্যাজিক’ ঘটা অসম্ভব। যোগ্য প্রার্থীদের সরিয়ে রেখে কেন ‘পয়মন্ত সকালে’ আসা শিব শংকরকেই বেছে নেওয়া হলো, তা নিয়ে জনমনে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন থেকেই যাচ্ছে।‌ তবে মাঠের উইকেট নেওয়া হয়ত শিবশংকরের কাছে সহজ ছিল, কিন্তু রাজনীতির পিচে নেমে এই ‘সুযোগসন্ধানী’ তকমা ঘুচিয়ে তিনি কতটা রান তুলতে পারবেন, সেটাই এখন দেখার। আপাতত তাঁর এই ঝটিকা ভাগ্যোদয় নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

Exit mobile version