প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাঁকুড়ার ইন্দাস। বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ সরাসরি ইন্দাস থানার ওসি এবং স্থানীয় বিডিও-র বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তীব্র হুঁশিয়ারি দিলেন। তাঁর সাফ কথা, প্রশাসন যদি শাসকদলের ক্যাডার হিসেবে কাজ করা বন্ধ না করে, তবে তাঁদের পদ থেকে সরে যেতে হবে।
ইন্দাস বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী নির্মল কুমার ধারার সমর্থনে প্রচারে বেরিয়েছিলেন সৌমিত্র খাঁ। প্রচার চলাকালীন তিনি দেখতে পান যে, রাস্তার ধারে লাগানো বিজেপির একাধিক দলীয় পতাকা ও ফ্লেক্স ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। সাংসদের অভিযোগ, পুলিশের মদতেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই কাজ করছে। অথচ পাশেই থাকা তৃণমূলের পতাকাগুলো সম্পূর্ণ অক্ষত। আর এই দৃশ্য দেখেই ক্ষুব্ধ হন সাংসদ। ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “ইন্দাস থানার ওসি এখন তৃণমূলের ব্লক সভাপতির পুলিশের মত আচরণ করছেন। আর বিডিও সাহেবও একতরফাভাবে কাজ চালাচ্ছেন। সরকারি পদে বসে এই ধরণের দলদাসত্ব বরদাস্ত করা হবে না।”
এদিন পুলিশ ও ব্ক প্রশাসনের আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে সৌমিত্র খাঁ বলেন, “আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, হয় নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন, নয়তো পদ ছেড়ে দিন। সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় বেতন নিয়ে একটি নির্দিষ্ট দলের হয়ে দালালি করা যাবে না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, যদি দ্রুত এই পরিস্থিতির পরিবর্তন না হয়, তবে তিনি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হবেন এবং প্রয়োজনে বড়সড় আন্দোলনে নামবেন।
উল্লেখ্য, ইন্দাস এলাকায় সৌমিত্র খাঁর সঙ্গে পুলিশের সংঘাত নতুন কিছু নয়। গত জানুয়ারি মাসেই এক বিজেপি কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাঁকুড়া জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তরের সামনে ধরনায় বসেছিলেন তিনি। সেই সময় পুলিশ তাঁকে এবং তাঁর অনুগামীদের জোরপূর্বক আটক করলে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই পুরনো ক্ষোভই আজ পুনরায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেটে পড়েছে।
সাংসদের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে ঘাসফুল শিবির। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই সৌমিত্র খাঁ এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন এবং পুলিশকে ভয় দেখিয়ে নির্বাচনে অনৈতিক সুবিধা পেতে চাইছেন। তাঁদের মতে, আদর্শ আচরণবিধি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন সবকিছুই নজরে রাখছে, তাই এই ধরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
নির্বাচন কমিশন ইতিপূর্বেই পশ্চিমবঙ্গে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। এই আবহে বিষ্ণুপুরের সাংসদের এই প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি জেলা প্রশাসনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে ইন্দাস এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
