Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

পুলিশের দিন শেষ, নিরপেক্ষতার শুরু! নবান্নের হটসিটে বসে প্রথম দিনেই বড় ধামাকা শুভেন্দুর, অস্বস্তিতে কারা?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার ক্ষমতার অলিন্দে আজ যেন এক নতুন সূর্যোদয়। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সোমবার নবান্নের ১৪ তলায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রবেশ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর দায়িত্ব নিয়েই তাঁর প্রথম ‘অ্যাকশন’ শুরু হলো পুলিশ প্রশাসনকে দিয়ে। নবান্নে পা রেখেই তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, তাঁর জমানায় প্রশাসনের ধরণ বদলে যেতে চলেছে। প্রথম দিনেই পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে তিনি যে বার্তা দিলেন, তাতে কার্যত শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য প্রশাসনে।

নবান্নের সম্মেলন কক্ষে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী আজ অত্যন্ত কড়া এবং স্পষ্ট বার্তা দেন। বৈঠক সূত্রে খবর, তিনি সাফ জানিয়েছেন, “পুরানো দিনের সেই তকমা এবার ঝেড়ে ফেলুন। কোনো রাজনৈতিক দলের দাসত্ব করার দিন শেষ। আজ থেকে শুধু নিরপেক্ষ কাজ আর আইনের শাসন শুরু।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘ডে ওয়ান ধামাকা’য় আমলাতন্ত্রের অন্দরেও এখন কম্পন শুরু হয়েছে। তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, “স্বাধীনভাবে কাজ করুন, কারও রক্তচক্ষুকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। যদি কোনও ভুল নির্দেশ উপর থেকে আসে, তবে তা অগ্রাহ্য করার সাহস দেখান।”

শুভেন্দু অধিকারীর এই নির্ভেজাল এবং সাহসী বার্তার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র কাটাছেঁড়া। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘ফ্রি-হ্যান্ড’ পলিসি একদিকে যেমন সৎ ও নিষ্ঠাবান পুলিশ অফিসারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, তেমনি অস্বস্তিতে ফেলবে সেইসব মহলে যারা এতদিন প্রশাসনিক ক্ষমতাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে এসেছে। বিশেষ করে যারা ‘রাজনৈতিক চামচাগিরি’র মাধ্যমে ফায়দা তুলেছেন, তাদের জন্য আজ থেকেই যে ‘কাউন্টডাউন’ শুরু হয়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।

মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, শাসক হোক বা বিরোধী—অপরাধী অপরাধীই। সবার সঙ্গে সমানভাবে কথা বলুন এবং ব্যবস্থা নিন। পুলিশকে খাঁচা থেকে মুক্ত হয়ে সংবিধান মেনে কাজ করার নির্দেশ। সাধারণ মানুষের অভিযোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সমাধানের দাওয়াই।

প্রথম দিনেই শুভেন্দুর এই ‘ফুল অ্যাকশন মুড’ বুঝিয়ে দিল, আগামী দিনে বাংলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এক বড়সড় বাঁকবদলের মুখে। নবান্নের করিডোরে এখন একটাই আলোচনা— ‘নতুন বস’ কি সত্যিই প্রশাসনকে দলবাজি মুক্ত করতে পারবেন? তবে আজ তাঁর প্রথম দিনের পদক্ষেপ যে বাংলার রাজনীতিতে এক বিশাল মাস্টারস্ট্রোক, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

Exit mobile version