প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় দুষ্কৃতীরাজ ও গুন্ডামির দিন যে চিরতরে শেষ, আজ মহালয়ার পুণ্যলগ্নে দাঁড়িয়ে তা বুলেটের গতিতে স্পষ্ট করে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ শনিবার ব্রিগেডের মেগা প্রশাসনিক সভা থেকে রাজ্যে কঠোরভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষার স্বার্থে পুলিশকে সম্পূর্ণ ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দেওয়ার নজিরবিহীন ঘোষণা করলেন তিনি। একই সঙ্গে সমাজবিরোধীদের উদ্দেশ্যে সাফ জানিয়ে দিলেন, এখন থেকে কর্তব্যরত পুলিশের গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করলে তার পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়ানক।
আজকের সভা থেকে বিগত তৃণমূল জমানায় পুলিশের ওপর হওয়া একাধিক রাজনৈতিক হামলা, বোমাবাজি ও গুন্ডারাজের প্রসঙ্গ টেনে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে গর্জে ওঠেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি পার্ক স্ট্রিটে পুলিশ ও সিআরপিএফ কর্মীদের ওপর পাথর ছোঁড়ার পুরোনো এবং লজ্জাজনক ঘটনার উল্লেখ করে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “আমি আগেও সাংবাদিকদের সামনে বলেছিলাম, আজ আবার পরিষ্কার বলছি—যদি কেউ কর্তব্যরত পুলিশের গায়ে হাত দেয়, তবে আইন তার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ করবে। আসানসোলে যারা আইন ভেঙে পুলিশ ফাঁড়ি ভাঙচুর করেছিল, তাদের রেয়াত করা হয়নি, সরকারি সম্পত্তি নষ্টের পাইপয়সা তাদের থেকেই আদায় করেছি।”
পূর্বতন জমানার কড়া সমালোচনা করে পুলিশমন্ত্রী স্পষ্ট অভিযোগ তোলেন, বিগত সরকার নিজেদের দলের তোলাবাজ ও দুষ্কৃতীদের বাঁচাতে পুলিশের হাত-পা বেঁধে রেখে রাজ্যে অরাজকতা চালাত। কিন্তু বর্তমান বিজেপি সরকারের অধীনে সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় বিন্দুমাত্র কোনও খামতি রাখা হবে না। তিনি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, আরজি কর বা বারুইপুরের মতো নারকীয় ও জঘন্য ঘটনা বাংলায় আর কোনোদিন বরদাস্ত করা হবে না এবং অপরাধীদের সমূলে উপড়ে ফেলতে পুলিশকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। বদলের বাংলায় আইন নিজের হাতে তুলে নিলে অপরাধী যত বড়ই প্রভাবশালী হোক না কেন, তার জায়গা যে সরাসরি শ্রীঘর, তা আজকের এই রণহুঙ্কার থেকেই অত্যন্ত পরিষ্কার।
