প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শেষরক্ষা কি আর হবে না? রেশন পাচার কেলেঙ্কারিতে এবার এমন এক মহাবিস্ফোরন ঘটল, যার রেশ সরাসরি আছড়ে পড়ছে রাজ্য রাজনীতির অন্দরমহলে। শুক্রবার ভোরের আলো ফুটতেই কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদ— হাড়হিম করা অভিযানে নেমেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। একযোগে ১২টি জায়গায় চিরুনি তল্লাশিতে এমন এক ব্যবসায়ীর নাম ও সংস্থার হদিশ মিলেছে, যা শুনে বহু রথী-মহারথীর রাতের ঘুম উড়তে বাধ্য।
এতদিন যা ছিল স্রেফ গুঞ্জন, আজ ইডি-র অ্যাকশনে তা বাস্তবে রূপ নিল। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের স্ক্যানারে এবার উঠে এল বসন্ত কুমার শরাফ নামে এক প্রভাবশালীর নাম। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, এই শরাফের কোম্পানিগুলোই কি তবে কোটি কোটি টাকার রেশন পাচারের ‘সেফ প্যাসেজ’ ছিল? প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তাঁর ঠিক কতটা দহরম-মহরম ছিল, তা জানতে এখন মরিয়া অফিসাররা। ধৃতদের জেরা করে এই ব্যবসায়ীর যে বিপুল সম্পত্তির হদিশ মিলেছে, তা দেখে চক্ষু চড়কগাছ দুঁদে আধিকারিকদেরও।
উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থেকে হাওড়া বা মুর্শিদাবাদের অলিগলি— সর্বত্রই এখন ইডি-র বুটের শব্দ। কলকাতার সল্টলেক এবং সংলগ্ন এলাকায় শরাফের ডেরায় হানা দিয়ে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে খবর। সূত্রের দাবি, এই তল্লাশিতে এমন কিছু ডিজিটাল এভিডেন্স এবং ডায়েরি মিলেছে, যাতে বেশ কিছু প্রভাবশালী নেতার ‘লিঙ্ক’ স্পষ্ট হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়া এই মহাদুর্নীতির শিকড় আর কত গভীরে? সেই ‘অদৃশ্য হাত’ কি তবে এবার খাঁচাবন্দি হওয়ার মুখে?
কীভাবে চলত এই বিশাল কারবার? অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ চাল-আটা সরকারি গুদাম থেকে উধাও হয়ে সরাসরি ঢুকে পড়ত এই সিন্ডিকেটের অন্দরে। তারপর সেই পণ্য খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে পাহাড়প্রমাণ কালো টাকা তৈরি করা হতো। এই লভ্যাংশের টাকা ঠিক কার কার পকেটে পৌঁছাত, সেটাই এখন তদন্তের মূল বিষয়।
বিজেপি শিবিরের দাবি, এই দুর্নীতি কেবল হিমশৈলের চূড়ামাত্র। আসল মাস্টারমাইন্ডদের আড়াল করার চেষ্টা কি এবার ব্যর্থ হবে? রাজ্যজুড়ে এই মেগা-তল্লাশি কি আরও বড় কোনো গ্রেফতারির ইঙ্গিত দিচ্ছে? তদন্তকারীরা যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগোচ্ছেন, তাতে এটা স্পষ্ট যে জালে অনেক বড় মাছ ধরা পড়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। এই চাঞ্চল্যকর অভিযানের প্রতিটি মুহূর্তের ব্রেকিং আপডেটের জন্য নজর রাখুন আমাদের পোর্টালে। আসল সত্যিটা ঠিক কী, তা সম্ভবত আজ বিকেলের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে!
