প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভোটের বাদ্যি বাজার পর থেকেই বঙ্গ রাজনীতির পারদ চড়ছে। ঘাসফুল না পদ্ম— কে কোথায় শেষ হাসি হাসবে, তা নিয়ে যখন চায়ের কাপে তুফান, ঠিক তখনই বড়সড় এক মাস্টারস্ট্রোক দিল বিজেপি নেতৃত্ব। গত কয়েকদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপি প্রকাশ করল তাদের প্রার্থী তালিকা। তবে এই তালিকায় কেবল নতুন নামই নেই, রয়েছে বড়সড় চমক এবং অভাবনীয় রদবদল। যা নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে প্রবল গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
বিজেপির এই তালিকায় ৫টি নির্দিষ্ট আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। দমদম উত্তর: এই কেন্দ্রের জন্য বিজেপির বাজি সৌরভ শিকদার। তিনি বিজেপির প্রবাদপ্রতিম নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রয়াত তপন শিকদারের ভাইপো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিকদার পরিবারের ঐতিহ্যকে হাতিয়ার করেই এই কঠিন পিচে ব্যাটিং করতে চাইছে গেরুয়া শিবির।মধ্যমগ্রাম: দলের অভিজ্ঞ ও লড়াকু মুখ হিসেবে পরিচিত রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই গুরুত্বপূর্ণ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কৃষ্ণনগর উত্তর: এই কেন্দ্রে পদ্ম শিবিরের প্রার্থী হয়েছেন তারকনাথ চট্টোপাধ্যায়। কল্যাণী: তফশিলি অধ্যুষিত এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বিজেপির ভরসা অনুপম বিশ্বাস।উলুবেড়িয়া পূর্ব: এখানে প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে রুদ্রপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
তবে এই দফার তালিকায় সবথেকে বড় খবর হলো ৩টি আসনে প্রার্থীর পরিবর্তন। কেন আগের নামগুলো সরিয়ে নতুনদের আনা হলো, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ১. বসিরহাট উত্তর: এখানে পুরনো নাম সরিয়ে নতুন মুখ হিসেবে সামনে আনা হয়েছে কৌশিক সিদ্ধার্থকে। ২. বেহালা পূর্ব: কলকাতার এই হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রেও বড় রদবদল। এখানে দলের টিকিট পেলেন শঙ্কর শিকদার। ৩. বিষ্ণুপুর: তালিকার সবথেকে বড় নাটকীয়তা দেখা গেছে এই কেন্দ্রে। কারণ এখানে দ্বিতীয়বার প্রার্থী বদল করল বিজেপি। অনেক যাচাই-বাছাইয়ের পর শেষ পর্যন্ত অভিজিৎ সর্দারের ওপরই আস্থা রাখল দল।
কেন এই রদবদল? সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, দলের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা এবং স্থানীয় স্তরের কর্মীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ বিচার করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব। কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে ‘উইনেবিলিটি’ বা জেতার ক্ষমতাকেই প্রধান মাপকাঠি করা হয়েছে। বিশেষ করে বিষ্ণুপুর এবং বেহালা পূর্বের মত আসনে প্রার্থী বদল বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, প্রতিটি ভোট বিজেপির কাছে কতটা মূল্যবান। বিজেপির এই রদবদল এবং নতুন মুখের ছড়াছড়ি তৃণমূলের অন্দরে কোনো চাপ তৈরি করবে কি না, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই গেরুয়া শিবিরের অন্দরে কোথাও খুশির হাওয়া, আবার কোথাও চাপা উত্তেজনা। তবে শেষ হাসি কে হাসবে, তার উত্তর দেবে আগামী নির্বাচনের ফলাফল।
