প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে পরিবর্তনের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই শুরু হয়ে গেল দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের মেগা অ্যাকশন। রেশন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত তথা প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কন্যা প্রিয়দর্শিনী মল্লিককে পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদ থেকে সরিয়ে দিল শিক্ষা দফতর। উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল প্রকাশের পর প্রশাসনিক শুদ্ধিকরণের অঙ্গ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, এর নেপথ্যের নাটকীয়তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, রাজ্যে সরকার বদলের পর প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও স্বচ্ছতা ফেরানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রিয়দর্শিনী মল্লিককে প্রথমে নিজে থেকেই পদত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই পরামর্শ এড়িয়ে পদত্যাগে স্পষ্ট অসম্মতি জানান। তবে নতুন সরকারের জমানায় যে ‘প্রভাব খাটানো’র দিন শেষ, তা স্পষ্ট করে দিয়ে স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে সরাসরি নির্দেশিকা জারি করে তাঁকে এই উচ্চ পদ থেকে ‘অব্যাহতি’ বা রিলিজ দেওয়া হয়।
বিকাশ ভবনের কড়া নির্দেশিকার পর প্রিয়দর্শিনী মল্লিককে তাঁর ‘মাদার পোস্টিং’ বা আদি সংস্থায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। তিনি কলকাতার আশুতোষ কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে পুনরায় নিজের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে পূর্বতন সরকারের আমলে তিনি সংসদের সচিব পদে বসার পর থেকেই তাঁর নিয়োগের যোগ্যতা নিয়ে শিক্ষা মহলে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল।
পিতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক রেশন দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার পরেও প্রিয়দর্শিনীকে সংসদের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। সাধারণ মানুষ এবং চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের মধ্যে এই নিয়ে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ছিল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই প্রশাসনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর করার বার্তা দিল। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দেওয়া হলো যে, নতুন জমানায় কোনও রকমের স্বজনপোষণ বা দুর্নীতির ছায়াকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
