প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকদের ভোটকর্মী হিসেবে নিয়োগ নিয়ে চলা দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটল। আজ, ২১ এপ্রিল, কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিল—ভোটে কাজ করতে বাধ্য অধ্যাপকরা। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ বহাল রেখে বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, “গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হওয়া প্রত্যেকের কর্তব্য। আপনারা নির্বাচন স্তব্ধ করতে চাইছেন, কিন্তু সেই ক্ষমতা আপনাদের নেই।”
গত ১৭ এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ এক নির্দেশে জানিয়েছিল, কলেজ শিক্ষকদের প্রিসাইডিং অফিসার বা ভোটকর্মী হিসেবে নিয়োগ করা যাবে না। এর ফলে কয়েক হাজার অধ্যাপকের নির্বাচনী ডিউটি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। সিঙ্গল বেঞ্চের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে তড়িঘড়ি ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় নির্বাচন কমিশন। আজ সেই মামলার শুনানিতেই সিঙ্গল বেঞ্চের রায় পুরোপুরি খারিজ করে দিল আদালত।
শুনানি চলাকালীন বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, দেশের স্বার্থে কাজ করতে অধ্যাপকদের অনীহা কেন? আদালত মন্তব্য করে:
নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার কোনো প্রচেষ্টাই বরদাস্ত করা হবে না। আদালত বলেছে, “আপনারা একটা গন্ডগোল পাকাতে চাইছেন, যার অনুমতি আদালত দেবে না।” দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো টিকিয়ে রাখতে অধ্যাপক থেকে সাধারণ মানুষ—সকলের সমান দায়বদ্ধতা রয়েছে।
ডিভিশন বেঞ্চের এই রায়ের ফলে সহকারী অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগে আর কোনো আইনি বাধা রইল না। কমিশন সূত্রে খবর, যাঁরা ইতিমধ্যে নিয়োগপত্র পেয়েছেন, তাঁদের আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিলের দফার ভোটের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে ডিউটিতে রিপোর্ট করতে হবে। আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে, বহু অধ্যাপক স্বেচ্ছায় কাজে যোগ দিয়েছেন, তাই বাকিদের ক্ষেত্রেও নিয়মের অন্যথা হবে না।
ডিভিশন বেঞ্চের এই রায় নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে, নির্বাচনের মুখে ভোটকর্মীদের ঘাটতি মেটাতে আদালতের এই কড়া অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
