Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

জনরোষ দেখেই কি পিঠটান? স্বর্ণকমলদের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগে প্রিয়ঙ্কা গর্জে উঠতেই কেন ছটফট করছেন ঋতব্রত?

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে সাম্প্রতিক বহিষ্কার ও নতুন গোষ্ঠী গঠনকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। একদিকে যখন দল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়কদের একাংশ নতুন সমীকরণ তৈরির চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই এন্টালির বিধায়কের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগে তপ্ত কলকাতার রাজপথ। এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা ও তাঁর বাবা তথা প্রাক্তন বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার বিরুদ্ধে জমি দখল ও তোলাবাজির গুরুতর অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন বিজেপি নেত্রী প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশকে সঙ্গে নিয়ে বিধায়কের বাড়ির সামনে তিনি একটি অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন। আর এই ঘটনার পরেই বিজেপি নেত্রীর তীব্র সমালোচনা করে পাল্টা সরব হয়েছেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ তথা নবঘোষিত বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি নেত্রী প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়ালের এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা বলে দাবি করেছেন ঋতব্রতবাবু। তাঁর মতে, এক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বাড়ির সামনে এই ধরণের বিক্ষোভ অত্যন্ত “অনভিপ্রেত” এবং “উদ্বেগজনক”। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধায়কের বিরুদ্ধে ওঠা কাটমানি ও জমি দখলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থেকে জনমানসের নজর ঘোরাতেই পাল্টা প্রতিবাদের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিক্ষুব্ধ শিবিরের নেতারা। বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের পক্ষ থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনড় অবস্থানের সমালোচনা করে একাধিক প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

ঋতব্রতবাবু এই বিক্ষোভ কর্মসূচির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই নিউ মার্কেট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তবে সমালোচকদের একাংশের দাবি, বিধায়কের বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজি ও দুর্নীতির আসল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এড়াতেই এখন প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার এই তৎপরতা দেখানো হচ্ছে। নিজের বক্তব্যে ঋতব্রতবাবু দাবি করেছেন যে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কিংবা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য নিশ্চিতভাবেই প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়ালের এই ধরণের আন্দোলনকে কোনোভাবে সমর্থন করবেন না। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ মানুষের জমি দখল ও কাটমানি আদায়ের মতো জনস্বার্থবিরোধী দুর্নীতির বিরুদ্ধে যেকোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে সব রাজনৈতিক দলই মান্যতা দেয়। প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল কোন এক্তিয়ারে বা ব্যক্তিগত স্বার্থে এই আন্দোলন পরিচালনা করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঋতব্রতবাবু। তবে ওয়াকিবহাল মহলের পাল্টা প্রশ্ন, সন্দীপন সাহা ও স্বর্ণকমল সাহার বিরুদ্ধে যখন সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছেন, তখন ঋতব্রতবাবু কোন বিশেষ স্বার্থে তাঁদের রক্ষা করতে ঢাল হিসেবে সামনে এলেন?

গত কয়েকদিন ধরেই তৃণমূলের অন্দরে প্রবল অসন্তোষ ও ভাঙন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহারা মিলে বিধানসভায় একটি নতুন গোষ্ঠী তৈরির আবেদন জানিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তৃণমূলের অন্দরে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং বিধায়কের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া প্রতিষ্ঠান-বিরোধী জনরোষ থেকে বাঁচতেই এই ‘বিক্ষুব্ধ’ তকমা ব্যবহারের মরিয়া চেষ্টা চলছে। এলাকাবাসীদের একাংশের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, স্বর্ণকমল ও সন্দীপন সাহা কাউন্সিলর ও বিধায়ক থাকাকালীন এলাকায় ব্যাপক সিন্ডিকেট রাজ ও তোলাবাজি কায়েম করেছিলেন। আর সেই কারণেই প্রতীকী ‘গাধা’ নিয়ে এসে এই অভিযুক্তদের বাড়ির সামনে অভিনব উপায়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল। এখন সংবাদ সম্মেলন করে ঋতব্রতবাবু যতই এই আন্দোলনকে আইনি তকমায় বাঁধার চেষ্টা করুন না কেন, তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ওঠা ক্ষোভ যে এন্টালির রাজপথে বড়সড় জনরোষের রূপ নিয়েছে, তা রাজনৈতিকভাবে আড়াল করা কঠিন।

Exit mobile version