প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরের ফাটল ও বিদ্রোহ এবার সম্পূর্ণ জনসমক্ষে চলে এল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ শিবিরে যোগ দিলেন উত্তরবঙ্গের অন্যতম বর্ষীয়ান হেভিওয়েট নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তবে দলবদল করেই ক্ষান্ত হননি তিনি; বরং দলের মূল সংগঠনে দীর্ঘদিন ধরে চলা স্বজনপোষণ এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের প্রশ্রয় দেওয়ার নীতিকে কাঠগড়ায় তুলে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন এই প্রাক্তন মন্ত্রী।
তৃণমূলের মূল ধারার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “দলের অন্দরে একসময় অযোগ্য এবং চরম দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বড় বড় সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।” তাঁর দাবি, যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের কোণঠাসা করে রেখে যাদের ওপর ভরসা করা হয়েছিল, তারা আজ বিভিন্ন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত এবং আইনি ভয়ে ঘরছাড়া। এই ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলকে এক অভূতপূর্ব এবং ঐতিহাসিক ভরাডুবির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রবীন্দ্রনাথ ঘোষের এই আক্রমণ সরাসরি দলের যুব নেতৃত্ব এবং পিকে-র সংস্থা ‘আই-প্যাক’ (I-PAC)-এর দিকেই নির্দেশ করছে। দীর্ঘদিন ধরেই দলের পুরনো ও প্রবীণ নেতাদের একাংশের মধ্যে এই নিয়ে চাপা ক্ষোভ ছিল যে, শুধুমাত্র চাটুকারিতা এবং আর্থিক প্রভাব খাটিয়ে বহু অযোগ্য ব্যক্তি দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে বসেছিল। রবীন্দ্রনাথ বাবু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই ভুল ও অনৈতিক সাংগঠনিক কাঠামোর প্রতিবাদ জানাতেই এবং নিচুতলার সৎ কর্মীদের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতেই তিনি ঋতব্রত শিবিরের হাত শক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কম রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং আই-প্যাকের খবরদারির কারণে যে আজ সাধারণ কর্মীদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, সেই কথাও উঠে এসেছে তাঁর গলায়। তবে অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজদের দলে গুরুত্ব দেওয়ার ফলেই যে আজ তৃণমূলের এই রাজনৈতিক বিপর্যয়, তা এদিনের বিস্ফোরক মন্তব্যে আরও একবার পরিষ্কার করে দিলেন কোচবিহারের এই অভিজ্ঞ রাজনীতিক।
