Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

আদর্শের বালাই নেই, লক্ষ্য শুধুই পদ বাঁচানো? দিল্লি ফিরেই স্পিকারের দরবারে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতিতে ক্ষমতার সমীকরণ বদলানোর সাথে সাথে নেতাদের অবস্থান পরিবর্তন নতুন কিছু নয়, কিন্তু তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পদক্ষেপকে স্রেফ ‘সুযোগসন্ধানী’ বলে কটাক্ষ করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। গত ১৪ জুন যখন তৃণমূলের ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ দিল্লিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে গিয়ে দল ছাড়ার চিঠি জমা দিচ্ছিলেন, তখন বাংলার এই ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ ব্যস্ত ছিলেন নিজের মালয়েশিয়া সফরে। আজ, ১৬ জুন বিদেশ থেকে ফিরেই তিনি সোজা পৌঁছে গেলেন স্পিকারের দরবারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, লক্ষ্য একটাই—নিজের সাংসদ পদ বাঁচানো এবং নতুন রাজনৈতিক বৈতরণী পার হওয়া।

স্পিকারের ঘর থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে রচনা দাবি করেছেন, “গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের অভাবে কোনো কাজ করা সম্ভব হয়নি”। বাংলার রাজনৈতিক সচেতন মহলে আজ রচনার এই স্ববিরোধী বয়ান নিয়ে তীব্র চর্চা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের পক্ষ থেকে আজ তীব্র প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, গত ১৫ বছর ধরে যখন তৃণমূলের জমানায় বাংলার উন্নয়ন নিয়ে হাজারো প্রশ্ন উঠছিল, সিন্ডিকেট রাজ আর দুর্নীতিতে যুবসমাজের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে যাচ্ছিল, তখন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন চুপ ছিলেন? তখন তো তিনি শাসকদলের প্রথম সারির মুখ হিসেবে মঞ্চ আলো করে থাকতেন। আজ বাংলায় বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর হঠাৎ রচনার মনে পড়ল যে রাজ্যে কোনো কাজ হয়নি? এই আকস্মিক ভোলবদল কি সত্যিই উন্নয়নের স্বার্থে, নাকি ক্ষমতা হারানোর ভয়ে—সেই প্রশ্নই তুলছেন সাধারণ মানুষ।

তৃণমূলের অন্দরে যখন ভাঙন নিশ্চিত, তখন রচনা ও তাঁর সঙ্গী ১৯ জন সাংসদ মিলে ত্রিপুরার এক প্রায় অপরিচিত দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, এটি আদর্শগত কোনো পরিবর্তন নয়, বরং দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে বাঁচতে এবং নিজেদের সাংসদ পদ টিকিয়ে রাখার এক চরম মরিয়া চেষ্টা। ক্ষমতার অলিন্দে থাকা এবং পদ বাঁচানোর এই তাগিদকে ‘উন্নয়নের স্বার্থ’ বলে চালানোটা বাংলার সচেতন ভোটাররা কতটা মেনে নেবেন, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ রয়েছে।

আজ দিল্লি নেমেই রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা গেছে বিজেপি নেতা নিশিকান্ত দুবে এবং ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে চক্কর কাটতে। মুখে ত্রিপুরার দলের কথা বললেও, রচনার আসল লক্ষ্য যে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সুনজরে আসা, তা রাজনৈতিক মহলের অলিন্দে গুঞ্জন তৈরি করেছে। এমনকি সুর নরম করে তিনি আজ পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাজের গতির প্রশংসাও করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ক্ষমতার অলিন্দে থাকার এই মরিয়া চেষ্টায় রাজ্য বিজেপি কি আদেও এই ধরণের পরিযায়ী রাজনীতিবিদের প্রশ্রয় দেবে?

বাংলার মানুষ ২০২৬ সালের নির্বাচনে দুর্নীতি আর ভণ্ডামির বিরুদ্ধে রায় দিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাষ্ট্রবাদী সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। সেখানে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো যাঁরা এতদিন পূর্বতন সরকারের সমস্ত সুবিধা ভোগ করেছেন, তাঁদের এই হঠাত্ ‘উন্নয়নপ্রেম’ অত্যন্ত হাস্যকর ঠেকছে বলে দাবি করছেন সমালোচকরা। রাজনৈতিক ডিগবাজি খেয়ে নিজের অতীত অবস্থান আড়াল করা যায় না, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজকের এই দিল্লি-তৎপরতা সেটাই আরও একবার প্রমাণ করে দিল।

Exit mobile version