প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে ‘বিদেশি যোগ’ ও ‘দেশদ্রোহী’ তকমা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা এবার তুঙ্গে। এবার প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি প্রকাশ্য মঞ্চে মুখোমুখি বিতর্কের (Open Debate) চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করে মোদীকে এই আহ্বান জানান তিনি। রাহুল গান্ধীর স্পষ্ট বক্তব্য, “২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও মোদীজির তরফ থেকে কোনো জবাব আসেনি। একদিকে আপনি বসুন, অন্যদিকে আমি। আর এই বিতর্কের মডারেটর বা বিচারক হিসেবে আপনি আরএসএস (RSS) প্রধান মোহন ভাগবতকেও নিযুক্ত করতে পারেন।”
রাহুল গান্ধী তাঁর বার্তায় জানান, প্রধানমন্ত্রী এবং শাসকদল প্রায়শই বিরোধীদের “দেশদ্রোহী” বলে কটাক্ষ করে এবং বিদেশি শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ তোলে। বিরোধী দলনেতার পাল্টা দাবি, প্রধানমন্ত্রী মুখোমুখি টেবিলে বসুন এবং দেশবাসী দেখুক—প্রকৃতপক্ষে দেশদ্রোহী কে, কার কাছে বিদেশি আর্থিক সাহায্য বা ‘ফরেন ফান্ডিং’ আসছে এবং বিদেশি শক্তির সঙ্গে কার কী ধরনের যোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি দেশের বর্তমান আর্থিক ব্যবস্থা, সাম্প্রতিক ইউএস বা মার্কিন চুক্তি (US Deal), আদানি মামলা এবং জেফ্রি এপস্টাইন সম্পর্কিত নানাবিধ বিতর্কিত বিষয় নিয়েও প্রকাশ্যে আলোচনার দাবি তুলেছেন রাহুল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মার্কিন চুক্তি কেন ক্যাবিনেটকে না জানিয়ে এত দ্রুত করা হলো।
প্রধানমন্ত্রীকে দীপাবলির শুভেচ্ছা জানিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, বিতর্কের জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজের পছন্দমত যেকোনো মঞ্চ, সময় বা জায়গা বেছে নিতে পারেন। সেখানে মিডিয়া এবং দেশের যুবসমাজ উপস্থিত থাকবে। মোদীকে “ডরো মত” (ভয় পাবেন না) বলে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪৫টি মানহানির মামলা রয়েছে। এই বিদেশি যোগের অভিযোগ নিয়েও আপনি কেন আমার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করছেন না? মামলা করুন, আমরা তা নিয়েও প্রকাশ্যে আলোচনা করব।”
সম্প্রতি গুজরাটের একতা নগরে ‘রাষ্ট্রীয় একতা দিবস’-এর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিরোধী দলকে তীব্র আক্রমণ করে ‘অবরোধ পক্ষ’ (obstructionist force) বলে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু দেশবিরোধী শক্তি দেশের বাইরে গোপন বৈঠক করে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করার ও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রীর সেই মন্তব্যের পরই রাহুল গান্ধী পালটা তোপ দেগে অভিযোগ করেন যে, মোদী নিজে বিদেশি শক্তির সাহায্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং বিদেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও আর্থিক ব্যবস্থা তাঁকে সমর্থন করছে।
রাহুল গান্ধীর এই লাগাতার আক্রমণের পর রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ হায়দরাবাদ থেকে রাহুল গান্ধীকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন, সরকার ইভিএম (EVM), অনুপ্রবেশকারী বা অন্য যেকোনো জাতীয় ইস্যুতে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে আলোচনা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত, কিন্তু রাহুল গান্ধী সংসদ চলতে দেন না। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও রাহুলের এই ‘বিদেশি সাহায্য’ সংক্রান্ত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সব মিলিয়ে, লোকসভার বিরোধী দলনেতার এই ওপেন ডিবেটের আহ্বানকে ঘিরে এই মুহূর্তে জাতীয় রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
