Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বদলি নয়, সরাসরি বরখাস্ত! ‘দুর্নীতির প্রতীক’ ধর্মেন্দ্র প্রধানকে নিয়ে মোদী সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি রাহুল গান্ধীর!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দেশজুড়ে চলমান শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও NEET পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থনে সুর আরও চড়ালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত Cockroach Janta Party (CJP)-র শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রীকে ‘দুর্নীতি ও অযোগ্যতার প্রতীক’ আখ্যা দিয়ে তাঁকে অবিলম্বে মন্ত্রিসভা থেকে সম্পূর্ণ বরখাস্ত করার জোরালো দাবি তুলেছেন কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা।

ক্যাবিনেটের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে রাহুল গান্ধী আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সরকার সম্ভবত ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে অন্য কোনো দপ্তরে স্থানান্তরিত করে মুখ রক্ষার চেষ্টা করছে। তবে সরকারের এই সম্ভাব্য কৌশলকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদলে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে সরিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে দেশের কোটি কোটি ছাত্রছাত্রী বা বিরোধীরা তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। কংগ্রেস নেতার অভিযোগ, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী দেশের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের এবং শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্নীতির প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। তাই তাঁকে স্রেফ বদলি নয়, সরাসরি ক্যাবিনেট থেকে বরখাস্ত করতে হবে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট করে দেন যে, শিক্ষার্থীদের প্রধান ৩টি দাবি সম্পূর্ণ অনড় এবং এ নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। দাবিগুলি হলো: শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান সংকটের জন্য দায়ী করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদচ্যুত করা। যন্তর মন্তর ও সংসদ অভিযানে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ ও পেলেট গান ব্যবহারের জন্য দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। পরীক্ষা জালিয়াতি এবং শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের পুরো দায় নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দেশের ছাত্রসমাজের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর গভীর রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া ভিডিও বার্তার সমালোচনা করে রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের তরুণ সমাজ এখন কোনো ফাঁকা আশ্বাস বা ভিডিও চায় না, তারা কার্যকর পদক্ষেপ চায়। প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি মন্তব্য করেন, “নরেন্দ্র মোদী এখন ভারতের অতীত, আর আমাদের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যৎ। অতীত কখনো ভবিষ্যতের সঙ্গে লড়াই করে জিততে পারে না।”

সরকারি একাধিক সূত্রের দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ বা বদলির কোনো প্রশ্নই ওঠে না এবং সরকার তাঁর পাশেই রয়েছে। শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিরোধীরা শিক্ষার্থীদের আবেগকে হাতিয়ার করে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে কেন্দ্রের আনা কঠোর আইন ও পদক্ষেপের আলোচনাকে পাশ কাটিয়ে বিষয়টিকে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য ব্যবহার করছে। প্রধানমন্ত্রীও আশ্বস্ত করেছেন যে, পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকার সুনির্দিষ্ট ও কঠোরতম সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

Exit mobile version