প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
ভোটের ঠিক মুখে রণক্ষেত্র দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি। দিঘিরপাড়-বকুলতলা পঞ্চায়েত এলাকার ২১৬ নম্বর বুথের বিজেপি সহ-সভাপতি কিশোর দাসের (৩৭) রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে। রাজনৈতিক খুন নাকি ব্যক্তিগত আক্রোশ— এই প্রশ্নেই এখন উত্তাল এলাকা।
সোমবার রাতে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় কিশোরকে। এরপর আর ঘরে ফেরা হয়নি তাঁর। দীর্ঘ সময় পর বাড়ির অদূরেই তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ কিশোর দাসের স্ত্রী এবং এক প্রতিবেশী যুবককে গ্রেফতার করেছে। সুন্দরবন জেলা পুলিশের দাবি, এই খুনের নেপথ্যে রয়েছে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের টানাপোড়েন। ব্যক্তিগত বিবাদের জেরেই কিশোরকে প্রাণ দিতে হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান তদন্তকারীদের।
পুলিশের এই তত্ত্ব মানতে নারাজ স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। আজ সকালে নিহতের বাড়ি যান রায়দিঘির বিজেপি প্রার্থী পলাশ রানা। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, “তৃণমূলের হার নিশ্চিত জেনে আমাদের সক্রিয় কর্মীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে পরকীয়ার গল্প সাজাচ্ছে।”
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে আজ বিকেল ৪টে নাগাদ রায়দিঘি থানা ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের হুঁশিয়ারি, প্রকৃত দোষীরা আড়াল হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে। অন্যদিকে, তৃণমূল এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘পারিবারিক বিবাদ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই খুনের প্রকৃত ধরন স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
