Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

‘টাকা দিত না দিল্লি?’ মোদি জমানার খতিয়ান দিয়ে কুৎসার বেলুন ফুটো করলেন অশ্বিনী বৈষ্ণব! নবান্নে দাঁড়িয়ে হিসাব চাইলেন রেলমন্ত্রী!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বরাদ্দ নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার যে সস্তা রাজনৈতিক বয়ান বছরের পর বছর ধরে বাংলায় চালানো হচ্ছিল, আজ স্রেফ একটা পরিসংখ্যানে তা খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। শনিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পূর্বতন ইউপিএ আমল এবং বিদায়ী তৃণমূল জমানাকে একযোগে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন তিনি। টাকার অঙ্কের নিখুঁত হিসেব দিয়ে রেলমন্ত্রী স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন, দিল্লির দরবার থেকে বাংলার জন্য ঢেলে দেওয়া হলেও, এতদিন কাদের সদিচ্ছার অভাবে সেই টাকা মানুষের কাজে লাগেনি।

পরিসংখ্যানের খতিয়ান তুলে ধরে রেলমন্ত্রী আজ রীতিমতো চড়া সুরে আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি জানান, যখন কেন্দ্রে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার ছিল এবং রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস সেই সরকারের অংশীদার ছিল, তখন পশ্চিমবঙ্গ রেলে বার্ষিক পেত মাত্র ৪,০০০ কোটি টাকা। আর আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সেই বরাদ্দের পরিমাণ একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১৪,২০৫ কোটি টাকায়! প্রশ্ন উঠছে, বরাদ্দের এই আকাশ-পাতাল তফাত থাকার পরও এতদিন কেন বাংলার রেল এবং মেট্রো প্রকল্পগুলো কচ্ছপ গতিতে চলল? টাকা যদি দিল্লি থেকে এসেও থাকে, তবে তা আটকে ছিল কার অঙ্গুলিহেলনে?

রেলমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় তোপ দেগে বলেন, “এতদিন পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়নকে আক্ষরিক অর্থেই আটকে রাখা হয়েছিল।” রাজনৈতিক মহলের মতে, অশ্বিনী বৈষ্ণব আজ নবান্নের অলিন্দে দাঁড়িয়েই বুঝিয়ে দিলেন যে, কেন্দ্রের পাঠানো এই বিপুল পরিমাণ অর্থ যাতে পরিকাঠামো উন্নয়নে খরচ না হতে পারে, তার জন্য কেবলই জমি জটের অজুহাত খাড়া করা হয়েছিল। দিল্লির কৃতিত্বকে সাধারণ মানুষের সামনে আড়াল করতেই এই দ্বিগুণ বরাদ্দকেও ধামাচাপা দিয়ে রাখার এক মরিয়া চেষ্টা চলেছিল। কিন্তু নতুন ডাবল-ইঞ্জিন সরকার আসায় সেই দিন শেষ।

বিজেপি শিবিরের দাবি, রেলমন্ত্রীর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁসের পর পরাজিত তোষণকারী শক্তির মুখ সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছে। বাংলার মানুষ এবার নিজের চোখে দেখতে পাচ্ছে যে, মোদি সরকার বাংলাকে বঞ্চিত করা তো দূর অস্ত, বরং আগের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি টাকা দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন জমানায় এই ১৪ হাজার কোটির পুরো সুফল এবার বাংলার প্রতিটি মানুষ পাবেন এবং রাজ্যের প্রতিটি জেলায় রেলের মানচিত্র বদলে যাবে।

Exit mobile version