Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

‘দেশকে বাঁচানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গবাসীকে ধন্যবাদ!’ নবান্নে শুভেন্দুর পাশে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক রেলমন্ত্রী, পরিবর্তনের বঙ্গে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ ধামাকা!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শনিবার দুপুরে নবান্নের চৌকাঠে যখন পা রাখলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, এবং তাঁর পাশে এসে দাঁড়ালেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তখনই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল—বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন ভোরের সূচনা হয়ে গেছে। তৃণমূল জমানার সেই চেনা ‘সংঘাতের রাজনীতি’ এখন স্রেফ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে। কিন্তু বৈঠক শেষে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে এসে রেলমন্ত্রী যা বললেন, তা এককথায় রাজনৈতিক পারমাণবিক বিস্ফোরণ! চড়া সুরে, ঝাঁঝালো গলায় অশ্বিনী বৈষ্ণব স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “দেশকে বাঁচানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গবাসীকে ধন্যবাদ।” রেলমন্ত্রীর এই একটি বাক্যেই লুকিয়ে রয়েছে এক তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তা। কাকে ধন্যবাদ দিলেন অশ্বিনী বৈষ্ণব? রাজ্যের কোটি কোটি সাধারণ মানুষকে। কেন দিলেন? কারণ, ২০২৬-এর মে মাসে তাঁরা ব্যালট বক্সে এমন এক জবাব দিয়েছেন, যা আক্ষরিক অর্থেই এক স্বৈরাচারী, তোষণকারী এবং দুর্নীতিগ্রস্ত অপশাসনের চিরতরে অবসান ঘটিয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, মোদি মন্ত্রিসভার এই হেভিওয়েট সদস্য আজ স্পষ্ট করে দিলেন—বাংলা যদি এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন না আনত, তবে দেশের অখণ্ডতা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সার্বিক উন্নয়ন—তিনটিই চরম বিপন্ন হতো। তাই এই ধন্যবাদ কেবল একটা সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, এই ধন্যবাদ দেশকে এক বড়সড় বিপর্যয় থেকে বাঁচানোর জন্য।রেলমন্ত্রীর গলায় এদিন ছিল সদ্য ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি তীব্র ক্ষোভ আর উপহাস। এক ইঞ্চি জমিও না ছেড়ে তিনি বলেন, “এতদিন পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়নকে আক্ষরিক অর্থেই আটকে রাখা হয়েছিল।” প্রশ্ন উঠছে, কেন আটকে ছিল? কার ব্যক্তিগত অহংকার আর রাজনৈতিক জেদের জন্য আটকে ছিল? স্রেফ কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের কৃতিত্বকে খাটো করতে, জমি জটের অজুহাত দিয়ে, একের পর এক প্রকল্পের ফাইল নবান্নের লাল ফিতেয় আটকে রেখেছিল পূর্বতন সরকার। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে গিয়ে এতদিন বাংলার মানুষকে আধুনিক রেল এবং উন্নত মেট্রো পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেই অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান ঘটেছে।

মোদী জমানার দিল্লি এবং শুভেন্দু অধিকারীর কলকাতা—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে বঙ্গে এখন আসল ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার। আর তার সুফল যে এবার বাংলার মানুষ হাতেনাতে পাবেন, তা রেলমন্ত্রীর শরীরী ভাষাতেই স্পষ্ট। মন্ত্রীর সাফ কথা, “পশ্চিমবঙ্গে কাজ করার এক অভূতপূর্ব নতুন সুযোগ এসেছে।” যে বাংলা পূর্বতন জমানার কাটমানি আর সিন্ডিকেট রাজের জেরে শিল্প ও পরিকাঠামোয় ধুঁকছিল, সেই বাংলাই এখন বুলেট গতিতে দেশের প্রথম সারিতে আসার জন্য প্রস্তুত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, অশ্বিনী বৈষ্ণবের এই মন্তব্য আসলে বাংলার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের দীর্ঘ লড়াইয়ের জয়গান। যে মানুষগুলো দিনের পর দিন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা চুরি আর চাকরি বিক্রির খেলা দেখে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন, তাঁরাই আজ বুক ভরে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন। আর সেই কারণেই দিল্লির দরবার থেকে আজ নবান্নে এসে সোচ্চারে এল এই ধন্যবাদ।

বিজেপি শিবিরের দাবি, রেলমন্ত্রীর এই সফর এবং এই মন্তব্য প্রমাণ করে দিল—মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন সরকারের ওপর দিল্লির আস্থা কতটা মজবুত। পরাজিত শক্তির সব বাধা উপড়ে এবার বাংলায় কেবলই কাজ আর কাজ।

Exit mobile version