প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যে তৃণমূল সরকার ২০২১ সালে ক্ষমতায় আসার আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, ক্ষমতায় এলে ডবল ডবল চাকরি হবে। কিন্তু চাকরি দেওয়া তো দূরের কথা, বরঞ্চ এই সরকারের আমলে যারা শিক্ষকতার চাকরি পেয়েছিলেন, তাদের এখন চাকরি হারিয়ে গিয়েছে। কারণ এই সরকারের নেতা-মন্ত্রীরা দুর্নীতি করেছে। আর সেই দুর্নীতির কারণে অযোগ্যরা চাকরি পেয়েছে। যার ফলে অনেকেই এখন পথে বসেছেন। আর চারিদিকে যখন এই হাহাকার, তখন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বুঝতে পেরেছেন যে, আর ক্ষমতায় টিকে থাকা হবে না। তাই সম্প্রতি বাজেটে তিনি যুবসাথী নামে একটি নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন। গতকাল থেকে জেলায় জেলায় ক্যাম্প করে সেই প্রকল্পের জন্য ফর্ম ফিলাপ চলছে। তবে প্রথম দিনেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, কেন অনলাইনে এটা করা হচ্ছে না? কেন এইভাবে শিব চতুর্দশীর দিন যেখানে প্রচুর ছেলেমেয়ে উপোস করে থাকবে, সেখানে এইভাবে তাদের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে? অবশেষে আজ থেকে অনলাইনে ফর্ম ফিলাপ শুরু করে দিয়েছে রাজ্য। তবে গতকাল অফলাইনে এই ফর্ম ফিলাপ শুরু হওয়ার দিনে রাজ্যের বেকারত্বের যে দৈন দশা সামনে এসেছে, তাতে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যে আরও বড় চাপের মুখে পড়ে গিয়েছেন, আজ সেই কথাই বুঝিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
যখন সমস্ত ব্যবস্থা গোটা দেশজুড়ে অনলাইন নির্ভর হয়ে পড়েছে, তখন কেন যুবসাথী প্রকল্পের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম ফিলাপ করতে হবে যুবক যুবতীদের? এই প্রশ্ন প্রথম দিনই তুলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই যে কোনো কারণেই হোক, আজ থেকে আবার অনলাইনে ফর্ম ফিলাপ চালু করে দিয়েছে রাজ্য। তবে গতকাল যেভাবে শিব চতুর্দশী থাকার কারণে প্রচুর যুবক-যুবতী উপোস থাকা সত্ত্বেও লাইনে দাঁড়িয়েছেন, তাতে একটা জিনিস হয়েছে। যে রাজ্য সরকার দাবি করে যে, তাদের সরকারের আমলে প্রচুর চাকরি হয়েছে, গতকাল জেলায় জেলায় যেভাবে বেকারদের লাইন লক্ষ্য করা গিয়েছে, তাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, এই রাজ্যে কত সংখ্যায় বেকার রয়েছে। কত লক্ষ যুবক যুবতীরা প্রচুর ডিগ্রী নিয়েও আজ শুধুমাত্র দেড় হাজার টাকার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তাই এই সরকারের মুখে বড় বড় দাবি যে একেবারেই মিথ্যে, তা গতকাল ক্যাম্পগুলিতে লাইন দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে বলেই জানিয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই তিনি বলেন, “আমি এর আগেও বলেছি। আজকেও বলছি। আপনি কেন লাইনে দাঁড় করাচ্ছেন? এখন কোনো লাইনে দাঁড় করাতে নেই। সব পোর্টাল, অনলাইন হয়ে গিয়েছে। তবে লাইনে দাঁড় করিয়ে একটা জিনিস সুবিধা হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গের বেকারদের যে ভয়াবহ চিত্র, রবিবার ছুটির দিন, তার ওপরে শিব চতুর্দশীর দিন, সেখানেও ৫, ৭, ৮ লক্ষ যুবক-যুবতী তারা লাইন দিয়েছেন। বাবা, মায়েরা লাইন দিয়েছেন। কি ভয়াবহ চিত্র, একদিনেই দেখেছেন।”
