Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ক্ষমতায় ফিরেই বড় সিদ্ধান্ত বিজেপি সরকারের: রাজ্যের স্কুলগুলিতে এবার বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতরম্’!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে পরিবর্তনের সরকার আসতেই শুরু হলো নীতিগত রদবদল। বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবার থেকে রাজ্যের সমস্ত স্কুলে সকালের প্রার্থনাসভায় জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গীত ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হলো। গতকালই শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে প্রতিটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটি রাজ্যের শিক্ষানীতিতে এক বড় রাজনৈতিক ও আদর্শগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

বিজেপির নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই এই নির্দেশিকা জারি হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। শিক্ষা দফতরের পাঠানো নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, আজ থেকেই রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং বেসরকারি স্কুলে সকালের প্রার্থনার সময় এই নিয়ম কার্যকর করতে হবে। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন নিয়ম মেনে গানটি গাওয়া হচ্ছে কি না, তা প্রতিনিয়ত তদারকি করা হবে এবং স্কুল শিক্ষা দফতরকে নিয়মিত রিপোর্ট পাঠাতে হবে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাম্প্রতিক প্রোটোকল অনুসরণ করেই এই নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্যের নতুন শিক্ষা দফতর। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মূল রচনার মোট ৬ টি স্তবকই সম্পূর্ণ গাইতে হবে স্কুলে। এই সম্পূর্ণ গানটি গাওয়ার জন্য মোট ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় সঙ্গীত (জনগণমন) গাওয়ার ঠিক আগে রাষ্ট্রীয় গীতটি পরিবেশন করতে হবে। গানটি গাওয়ার সময় জাতীয় সঙ্গীতের মতোই সকলকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে (attention) সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।

পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ গানটিকে ‘রাজ্য সঙ্গীত’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল এবং স্কুলে তা গাওয়ার নির্দেশ ছিল। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রীয় গীত বাধ্যতামূলক করলেও, পূর্বের রাজ্য সঙ্গীত গাওয়া বন্ধ হবে কি না, তা নিয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট নির্দেশ দেয়নি। ফলে, বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী স্কুলগুলিকে সকালের প্রার্থনায় পর পর তিনটি গান (বন্দে মাতরম্, জনগণমন এবং বাংলার মাটি, বাংলার জল) গাইতে হতে পারে, যা নিয়ে শিক্ষকমহলের একাংশের মধ্যে প্রার্থনা সভার সময়সীমা বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে মৃদু গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

ক্ষমতা পরিবর্তনের পরপরই শিক্ষা ক্ষেত্রে এই ধরণের বড় সিদ্ধান্ত আসায় স্বাভাবিক ভাবেই রাজ্য রাজনীতি সরগরম। নতুন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গানটির সৃষ্টির সার্ধশতবর্ষ বা ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে পড়ুয়াদের মনে দেশাত্মবোধ ও রাষ্ট্রীয় চেতনা জাগ্রত করতেই এই জাতীয় প্রোটোকল কঠোরভাবে বলবৎ করা হচ্ছে। তবে বিরোধী শিবির একে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর প্রথম ‘রাজনৈতিক এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়া’ বলে সমালোচনা শুরু করেছে। সব মিলিয়ে, পরিবর্তনের সরকার আসতেই প্রথম এই বড় সিদ্ধান্তকে ঘিরে এখন জোর বিতর্ক রাজ্যে।

Exit mobile version