Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

Big breaking “রাজ্যের টাকায় মসজিদ নয়, পবিত্রতা নষ্ট হবে” বাবরির শিলান্যাসে পৌঁছে গেলেন হুমায়ুন!

 

 

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- অবশেষে আজ সেই দিন। বিতর্কিত বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করতে চলেছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ইতিমধ্যেই তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হয়েছেন তিনি। তবে তারপরেও নিজের অবস্থানে অনড় থেকে তিনি যে এই মসজিদের শিলান্যাস করবেন, তা জানিয়ে দিয়েছেন হুমায়ুনবাবু। বিজেপি অবশ্য দাবি করছে, এটা তৃণমূলের গটআপ গেম। হিন্দু ভোট পাওয়ার জন্য তৃণমূল হুমায়ুনকে সাসপেন্ডের নাটক করছে। তবে তৃণমূলের পাল্টা দাবি, বিজেপির সাথেই পরিকল্পনা করে এই কাজ করছেন হুমায়ুন কবীর। আর এসবের মধ্যেই না তৃণমূল, না বিজেপি, তিনি যে বিকল্প একটি দল গঠন করতে চলেছেন, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন ভরতপুরের বিধায়ক। দিনের শেষে তার সুবিধে কে নেবে, সেটা তো সময় বলবে। কিন্তু আজ যে বিষয়টি নিয়ে গোটা রাজ্য রাজনীতিতে চর্চা চলছে, তা হচ্ছে, সেই বাবরি মসজিদের শিলান্যাস। অবশেষে আদালতের পক্ষ থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পরেই প্রচুর পুলিশি বেষ্টনী থাকা সেই শিলান্যাসে পৌঁছে গেলেন হুমায়ুন কবীর।

যেদিন তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হয়েছিলেন হুমায়ুনবাবু, সেদিন সকলেই ধরে নিয়েছিলেন যে, এই বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের কারণেই তিনি সাসপেন্ড হলেন। যদিও বা তারপরেও হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, তিনি এই মসজিদ করবেন। গোটা বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়। কিন্তু আদালত এই ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করার কথা জানিয়ে দেয়। উল্টে রাজ্যকেই আইনশৃঙ্খলা যাতে কোনোমতেই নষ্ট না হয়, তা দেখার পরামর্শ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। গতকাল দুজন পুলিশ আধিকারিক হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বন্ধ ঘরে কথা বলেন। আর অবশেষে আজ সেই মসজিদের শিলান্যাসে উপস্থিত হয়ে রাজ্যকেই চাপে ফেলে দিলেন ভরতপুরের বিধায়ক। তবে এটা কি লোক দেখানো, নাকি মন থেকেই বলা, তা নিয়ে অবশ্য বিভিন্ন মহলে চর্চা চলছে।

কিছুক্ষণ আগেই যে বিতর্কিত বাবরি মসজিদে শিলান্যাস হওয়ার কথা, আজ সেই অনুষ্ঠান স্থলে পৌঁছে যান ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। আর সেখানে গিয়েই অর্থ সংগ্রহ করেই যে এই বিশাল মসজিদ হবে, তা জানিয়ে দেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে সরকারের টাকায় তিনি যে কোনো মসজিদ করবেন না, সেই কথাও স্পষ্ট করে দেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, “শুধুমাত্র তিন কাঠা জায়গার ওপরে এত বিরোধিতা সত্ত্বেও আমরা আজকে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করছি। ২৫ বিঘা জায়গার মধ্যে হাসপাতাল হবে, বিশ্ববিদ্যালয় হবে, পার্ক হবে। পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে যত কোটি টাকার খরচ হয়, মুর্শিদাবাদ সহ মালদা, উত্তর দিনাজপুর, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, মেদিনীপুরের প্রচুর মানুষ আর্থিক সহযোগিতা করবেন। রাজ্য সরকারের টাকায় আমি মসজিদ করবো না। তাতে মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট হবে। এটা আমি কোনোমতেই গ্রহণ করবো না।” আর এখানেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি সত্যিই হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে তৃণমূলের এই দূরত্ব নাটক না হয়ে থাকে এবং যদি সত্যিই মন থেকে রাজ্যের বিরুদ্ধে এই কথা বলে থাকেন হুমায়ুনবাবু, তাহলে কিন্তু ভবিষ্যৎ তৃণমূলের ভোটব্যাংকের পক্ষে অত্যন্ত অশনি সংকেত হয়ে দাঁড়াবে। কেননা প্রকৃত অর্থেই যদি হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে আদায় কাচকলায় সম্পর্ক হয়ে থাকে তৃণমূল দলের, তাহলে আগামী দিনে যে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট যাতে সবেধর নীলমণি বলে পরিচিত, তাতে থাবা বসালে আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ক্ষমতায় আসতে পারবে কিনা, সেটা নিয়েই বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Exit mobile version