প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-এক নতুন ভোরের সাক্ষী থাকছে পশ্চিমবঙ্গ। পরিবর্তনের পর এবার রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোতেও বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত মিলছে। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বাসভবন পরিবর্তন করতে চলেছেন। আর তাঁর নতুন ঠিকানা হতে চলেছে আলিপুরের জাজেস কোর্ট রোডে অবস্থিত অত্যাধুনিক গেস্ট হাউস ‘সৌজন্য’।
শপথ গ্রহণের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা প্রোটোকল বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তিনি যে ব্যক্তিগত আবাসন থেকে কাজ পরিচালনা করছেন, সেখানে হাই-প্রোফাইল নিরাপত্তা (Z+ Category) বজায় রাখা এবং প্রতিদিন কয়েকশো দর্শনার্থী ও আধিকারিকদের সামলানো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে এবং পূর্ণ নিরাপত্তায় কাজ করতে পারেন, তার জন্যই একটি নির্দিষ্ট ‘অফিশিয়াল সিএম বাংলো’র প্রয়োজন অনুভব করেছে নবান্ন।
মজার বিষয় হলো, এই ‘সৌজন্য’ ভবনটি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগেই তৈরি হয়েছিল। ২০১৮ সালে এর উদ্বোধন করে তিনি একে আন্তর্জাতিক মানের অতিথি নিবাস হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। প্রায় সাড়ে সাত একর জমির ওপর নির্মিত এই ভবনে রয়েছে আধুনিক কনফারেন্স রুম, ভিভিআইপি স্যুট এবং উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা পরিকাঠামো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পূর্বতন সরকারের তৈরি করা এই পরিকাঠামোকেই এবার জনকল্যাণে এবং প্রশাসনিক দক্ষতায় ব্যবহার করতে চলেছে নতুন সরকার।
ইতিমধ্যেই রাজ্য পূর্ত দপ্তরের (PWD) উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ভবনটি পরিদর্শন করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ছোটখাটো সংস্কার এবং সেখানে একটি ছোট ‘মুখ্যমন্ত্রী সচিবালয়’ তৈরির কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে। নবান্ন থেকে এই ভবনের দূরত্ব খুব কম হওয়ায় যাতায়াতেও অনেক সুবিধা হবে।
সাধারণ মানুষের মতে, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান যদি একটি সুশৃঙ্খল পরিকাঠামো থেকে কাজ করেন, তবে তাতে সরকারি কাজের গতি বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, বিজেপি শিবিরের মতে, শুভেন্দু অধিকারী বরাবরই শৃঙ্খলার পথে চলায় বিশ্বাসী। তাই ব্যক্তিগত আবাসনের বদলে সরকারি নির্দিষ্ট অফিস-কাম-বাংলো থেকে কাজ করা তাঁর পেশাদারিত্বেরই পরিচয়।
সব ঠিক থাকলে, খুব দ্রুত আলিপুরের এই রাজকীয় ভবনটিই হতে চলেছে বাংলার ক্ষমতার অলিন্দ। কালীঘাটের বদলে এখন আলিপুরের এই ‘সৌজন্য’ থেকেই পরিচালিত হবে নতুন বাংলার উন্নয়নযজ্ঞ।
