Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

রানাঘাটে তুলকালাম: প্রশিক্ষণ শিবিরে মমতার ছবি! প্রতিবাদ করায় ভোটকর্মীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে ফের একবার প্রশ্নের মুখে রাজ্যের প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রশিক্ষণ শিবিরে খোদ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দেওয়া সরকারি বিজ্ঞাপন প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল নদিয়ার রানাঘাট। আদর্শ আচরণবিধি তুড়ি মেরে উড়িয়ে খোদ সরকারি স্তরেই শাসকদলের এই ‘পরোক্ষ প্রচারের’ প্রতিবাদ করায় এক ভোটকর্মীকে প্রাণঘাতী হামলার শিকার হতে হলো বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় ওই কর্মীর মাথা ফেটে যাওয়ায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

শুক্রবার সকালে রানাঘাট ইনস্টিটিউশন ফর বয়েজ স্কুলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ডিউটিতে থাকা কর্মীদের প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় দফার আয়োজন করা হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সরকারি নিয়ম মেনে প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার ঠিক আগেই সভাকক্ষের জায়ান্ট স্ক্রিন বা প্রজেক্টরে হঠাৎই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সম্বলিত একটি সরকারি বিজ্ঞাপন চলতে শুরু করে।

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর যেখানে গোটা রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি (MCC) জারি রয়েছে, সেখানে সরকারি প্রশিক্ষণ শিবিরে কেন মুখ্যমন্ত্রীর মুখ দেখানো হবে—এই প্রশ্ন তুলে সরব হন সৈকত চট্টোপাধ্যায় নামে এক নির্ভীক ভোটকর্মী। অভিযোগ, এই অসংগতির প্রতিবাদ করতেই সেখানে উপস্থিত বিডিও অফিসের কিছু কর্মী এবং শাসকদল ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা তাঁর ওপর চড়াও হন। চলে এলোপাথাড়ি কিল-চড়-ঘুষি। গুরুতর জখম অবস্থায় সৈকতবাবুর মাথা ফেটে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটে।

নিজস্ব সহকর্মীর ওপর এই বর্বরোচিত হামলার খবর ছড়াতেই প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত কয়েকশো ভোটকর্মী ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে প্রশিক্ষণ বয়কট করে স্কুল চত্বরে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। বিক্ষোভ কারীদের সাফ প্রশ্ন, “যেখানে প্রশিক্ষণ চলাকালীনই একজন কর্মীর নিরাপত্তা নেই এবং সরকারি বিজ্ঞাপন দেখিয়ে মগজ ধোলাইয়ের চেষ্টা চলছে, সেখানে বিধানসভা নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা কোথায়?”

এই নক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। তারা সরাসরি এই ঘটনার জন্য রাজ্য প্রশাসন ও শাসকদলকে দায়ী করেছেন। তাদের বক্তব্য, “নির্বাচন কমিশনের নাকের ডগায় সরকারি অফিসে বসে ভোটকর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে, এটাতেই পরিষ্কার যে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এই রাজ্যে কতটা কঠিন।” তারা অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন এবং রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর যথাযথ নজরদারির দাবি তুলেছেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। নদিয়ার জেলাশাসক শ্রীকান্ত পাল্লি জানিয়েছেন যে পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আক্রান্ত ভোটকর্মী সৈকত চট্টোপাধ্যায় বর্তমানে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনা বিধানসভা নির্বাচনের আগে নদিয়া তথা গোটা বাংলার ভোটকর্মীদের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল।

Exit mobile version