Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

উপনির্বাচনের আগেই চরম নাটকীয়তা! হঠাৎ মাঠ ছাড়লেন হুমায়ুন কবীর! রেজিনগরে বিরাট সিদ্ধান্ত!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক ১৬ দিন আগে রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড়! হুঙ্কার দিয়ে আচমকাই সশরীরে নির্বাচনী প্রচারের মাঠ থেকে সম্পূর্ণ সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। শুধু তিনি নিজে নন, রেজিনগর আসনে তাঁর দলের প্রার্থী তথা নিজের ছেলে গোলাম নবী আজাদ রবিনও আর রাস্তায় নেমে কোনও প্রথাগত প্রচার বা জনসভা করবেন না। আজ, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (রবিবার) দুপুরে মুর্শিদাবাদে এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে এই অত্যন্ত বড় ও চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন AJUP প্রধান। তবে মাঠ ছাড়লেও, ভোটের দিন পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে এক বড়সড় সংঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন এই দাপুটে নেতা।

হঠাৎ ভোটের প্রচার বয়কট করার পেছনে পুলিশ ও প্রশাসনের একপেশে মনোভাব এবং একতরফা ধরপাকড়কেই মূল কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই পক্ষপাতদুষ্ট পুলিশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর দলের কর্মী-নেতাদের পুরনো ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি সরব হয়ে বলেন, “আমরা যেখানেই কর্মীদের নিয়ে প্রচারে যাচ্ছি, তার পরের দিনই পুলিশ তাঁদেরকে গ্রেপ্তার করছে। গত রাতেই (শনিবার) রেজিনগরের নির্দল প্রার্থী (AJUP সমর্থিত) সাইফুল ইসলাম, ব্লকের গুরুত্বপূর্ণ নেতা মঞ্জুর রহমান, হক মল্লিক এবং আবদুল আলিমসহ ৪ জন শীর্ষ পদাধিকারীকে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছে।” তিনি স্পষ্ট জানান, রাজশক্তির এই চরম অপব্যবহারের প্রতিবাদে এবং কর্মীদের আর বিপদে না ফেলতে তাঁরা সশরীরে প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মাঠের প্রচার বয়কট করলেও ভোটের লড়াই থেকে তাঁর দল পিছু হটছে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। পুলিশের উদ্দেশ্যে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেন, “আমরা আর মাঠে নেমে প্রচার করব না। ভোটে যা হবে, হবে। পুলিশ যদি ভোট লুট করতে আসে, তবে ভোটের দিন সকাল থেকে বুথেই তার তীব্র প্রতিরোধ ও সরাসরি মোকাবিলা করা হবে।” তিনি জানান, আজ রবিবার থেকেই তাঁদের দলের সমস্ত নির্বাচনী প্রচার প্রথাগত জনসভা বা মিছিলের বদলে সম্পূর্ণভাবে ফেসবুক এবং অন্যান্য সমাজমাধ্যমের (Social Media) পাতায় সীমাবদ্ধ থাকবে। বাবার এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে প্রার্থী গোলাম নবী আজাদ জানান, দলের সামগ্রিক স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তা প্রার্থী হিসেবে তাঁর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

রেজিনগরের এই রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই, আরও এক বড় অস্বস্তিতে পড়েছেন AJUP প্রধান। একটি ভাইরাল অডিও ক্লিপের (যেখানে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে) তদন্তের স্বার্থে গত শনিবারই বহরমপুর থানার পুলিশ হুমায়ুন কবীরের শক্তিপুরের বাড়িতে গিয়ে আইনি নোটিশ দিয়ে এসেছে। আগামীকাল, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (সোমবার) তাঁকে তদন্তকারী আধিকারিকদের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও এই মামলাগুলিকে পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই দাবি করেছে তাঁর দল।উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের মূল বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুন কবীর একই সাথে নওদা ও রেজিনগর—উভয় কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। পরবর্তীতে নিয়ম মেনে তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬ এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তার আগেই প্রচার বয়কটের এই সিদ্ধান্ত মুর্শিদাবাদের নির্বাচনী সমীকরণকে এক ধাক্কায় অনেকটাই বদলে দিল।

Exit mobile version