প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মুর্শিদাবাদের হাইপ্রোফাইল রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের আসন্ন উপনির্বাচনের দামামা বাজতেই তপ্ত হয়ে উঠেছে জেলার রাজনৈতিক আবহাওয়া। ভারতের নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬ (রবিবার) রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে এবং ফলাফল ঘোষণা হবে ৯ অক্টোবর ২০২৬ (বুধবার)। দিনক্ষণ ঘোষণা হতে না হতেই গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বহরমপুরে জেলা শাসকের কার্যালয়ে গিয়ে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন হুমায়ুন-পুত্র গোলাম নবি আজাদ (রবিন)। মনোনয়ন পেশের পরেই রাজ্যের বর্তমান শাসক দল বিজেপিকে সরাসরি নিশানা করে হুঙ্কার ছেড়েছেন AJUP প্রধান তথা বর্তমান নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। কিন্তু কোন সমীকরণে শাসক দলকে টেক্কা দেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট সাজাচ্ছেন তিনি? জেনে নিন ভেতরের আসল অংক।
মাত্র ৪ মাস আগে অনুষ্ঠিত হওয়া ২০২৬-এর মূল বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর এবং নওদা—উভয় আসন থেকেই জয়লাভ করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। এর মধ্যে রেজিনগর আসনে নিকটবর্তী বিজেপি প্রার্থীকে ৫৮,৮৭৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে। নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন ছাড়তে হওয়ায় হুমায়ুন রেজিনগর ছেড়ে নওদা নিজের কাছে রাখেন এবং ছেলের জন্য এই মাঠ প্রস্তুত করেন। হুমায়ুনের দাবি, ৪ মাসের মধ্যে এই বিপুল জনসমর্থন ঘুরে যাওয়া অসম্ভব, এবং রেজিনগরের মানুষ এবারও তাদের ঘরের ছেলেকেই বেছে নেবেন। মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক ও ‘বাবরি আবেগ’রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রটি মূলত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা। এই অঞ্চলে দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ারে হুমায়ুন কবীরের নিজস্ব একটি মজবুত ভোট ব্যাংক রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এলাকার বিভিন্ন ধর্মীয় ও আবেগঘন ইস্যুকে কেন্দ্র করে সুর চড়িয়েছেন তিনি।রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মেরুকরণের আবহে সংখ্যালঘু ভোট যাতে কোনোভাবেই ভাগ না হয়ে সরাসরি AJUP-র ঝুলিতে আসে, সেই সমীকরণই সাজিয়েছেন হুমায়ুন, যা বিজেপিকে রুখতে সবচেয়ে বড় প্রাচীর হতে চলেছে।
অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটি (AICC) এই আসনে মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি-কে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। হুমায়ুন কবীর খুব ভালো করেই জানেন যে কংগ্রেস ভোট কাটলে কার ক্ষতি হবে। তবে তাঁর ভোট কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো, কংগ্রেস বা অন্য কোনো শক্তিকে জমি না দিয়ে লড়াইটাকে সরাসরি ‘AJUP বনাম বিজেপি’-তে রূপ দেওয়া। যদি ত্রিমুখী লড়াইয়ে বিরোধী ভোট ব্যাপকভাবে বিভক্ত হয়, তবে পূর্বের ৫৯ হাজারের লিড ধরে রাখা গোলাম নবি আজাদের জন্য অনেক সহজ হবে। অন্যদিকে, বিধানসভায় নিজেদের আসন সংখ্যা আরও বাড়িয়ে মুর্শিদাবাদে আধিপত্য কায়েম করতে মরিয়া পদ্ম শিবির। দলীয় সুত্রে খবর, ইতিমধ্যেই এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ এবং রাজ্য স্তরের হেভিওয়েট নেতাদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া শুরু হয়েছে। এই আসনের জন্য কমিশন ৩৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হুমায়ুন কবীর অবশ্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “রেজিনগরের সাধারণ মানুষের প্রার্থনা ও আশীর্বাদ আমাদের সাথে আছে, আমার ছেলে ১০০ শতাংশ নিশ্চিতভাবে এই আসন জিতবে।” আগামী ৬ অক্টোবরের এই মহাসংগ্রাম এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।
