প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আজ, ৬ অক্টোবর ২০২৬ (মঙ্গলবার) সকাল থেকেই রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন উত্তেজনা ছড়িয়েছে শক্তিপুর এলাকায়। তবে ভোটের সকালের সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান তথা স্থানীয় বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের শক্তিপুরের বাড়ি ঘিরে। ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তেই তাঁর বাড়ি চারদিক থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলে জেলা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। এমনকি তাঁর গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখতে বাড়ির ঠিক মাথার ওপর সকাল থেকেই উড়ানো হচ্ছে ড্রোন। নিজের ডেরায় এভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়তেই সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিধায়ক। তবে তাঁর এই প্রতিক্রিয়াকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার সস্তা কৌশল এবং “ভিকটিম কার্ড” খেলার চেষ্টা বলে তীব্র ধিক্কার জানিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।
হুমায়ুন কবীরের বাড়ি ঘেরাও এবং ড্রোনের নজরদারির খবর চড়ামাত্রই রাজ্য রাজনীতিতে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতাদের একাংশ তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেছেন, “যাঁরা সারাবছর নিয়ম না মেনে এলাকায় দাদাগিরি, উসকানিমূলক বয়ান এবং আইন নিজের হাতে নেওয়ার হুমকি দিয়ে এসেছেন, আজ আইনের কড়াকড়ি দেখেই তাঁদের সমস্ত দম্ভ চূর্ণ হয়ে গিয়েছে। সাধারণ শান্তিপ্রিয় মানুষকে ভয় দেখাতে না পেরে এখন উনি সংবাদমাধ্যমের সামনে কান্নাকাটি জুড়ে সস্তা নাটক করছেন।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রেজিনগর উপনির্বাচনের ঠিক আগের দিনগুলিতেও হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য ও উসকানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। ফলে নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশেই প্রশাসন আজ এই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে ভোটের দিন কোনোভাবেই এলাকায় শান্তি বিঘ্নিত না হয়।
এদিকে বাড়ির বাইরে ড্রোনের ক্যামেরা এবং দরজায় বিশাল পুলিশ বাহিনী দেখে চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। নিজের ঘর থেকেই সুর চড়িয়ে তিনি অভিযোগ করেন, “প্রশাসন সম্পূর্ণ পক্ষপাতিত্ব করছে। আমাদের দলের কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। আমি যাতে বুথে বুথে ঘুরতে না পারি, তার জন্যই এই ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে।” যদিও সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশের স্পষ্ট বক্তব্য, কোনো নেতাই আইনের ঊর্ধ্বে নন। ভোটের দিন বুথ সুরক্ষিত রাখতে এবং সাধারণ মানুষ যাতে অবাধে ভোট দিতে পারেন, তার জন্য প্রশাসনের এই কড়া অবস্থান অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রেজিনগরের এই উপনির্বাচন যাতে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত এবং কোনো রকম পেশীশক্তি ছাড়া সম্পন্ন হয়, তার জন্য প্রতিটি সংবেদনশীল এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে বিতর্কিত নেতাদের গতিবিধি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করতে এই ব্যবস্থা। ড্রোনের লাইভ ফুটেজ সরাসরি কন্ট্রোল রুম থেকে খতিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন। আপাতত শক্তিপুরের ওই এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভোটের দিন যত এগোবে, মুর্শিদাবাদের এই মেগা ড্রামা কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
