প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা এবং জুন মাসে দলীয় প্রতীক ও সাংগঠনিক স্তরে আড়াআড়ি বিভাজনের পর থেকেই অস্তিত্ব রক্ষার এক নজিরবিহীন লড়াই লড়ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (MAITC) অংশটি। আজ (মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর) মুর্শিদাবাদের হাইভোল্টেজ রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের দিন সেই রাজনৈতিক সংকট আরও তীব্রভাবে ভূপৃষ্ঠে চলে এলো বলে দাবি করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। ভোটগ্রহণের এই মেগা ফাইটে বুথ স্তরে দলটির হেভিওয়েট প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীর রহস্যজনক কম সক্রিয়তা এবং দৃশ্যত অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে কঠোরতম সমালোচনা ও কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে।
নির্বাচনী বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশের মতে, নবান্নে রাজনৈতিক ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে ক্রমশ অপ্রাসঙ্গিক ও প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নতুন শিবির। নতুন ‘ফুটবলার’ প্রতীক নিয়ে রেজিনগরের এই উপনির্বাচনটি ছিল মূলত তাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া লড়াই। কিন্তু খোদ ভোটের দিনেই যেখানে দীর্ঘদিনের চেনা বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরীকে বুথ স্তরে ভোটার ও কর্মীদের পাশে সেই চেনা আগ্রাসী মেজাজে দেখা গেল না, তাতেই রাজনৈতিক মহলের তীব্র জল্পনা—নেতৃত্ব কি ইতিমধ্যে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে? বিরোধী শিবিরের নেতারা এই সুযোগে সরাসরি তোপ দেগে বলছেন, “যে দলের প্রার্থী খোদ ভোটের দিন বুথ স্তরে কর্মীদের মনোবল জোগাতে পারেন না, সেই দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যে পুরোপুরি অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে এবং তারা ক্রমশ বাংলার বুক থেকে মুছে যাচ্ছে, রেজিনগরের ভোটের মাঠের এই দৃশ্য তারই চূড়ান্ত প্রমাণ।”
উল্লেখ্য, ভোটের ঠিক কয়েকদিন আগেই রবিউল আলম চৌধুরী দলীয় কর্মীদের ওপর চাপ ও মামলার কারণ দেখিয়ে একপ্রকার মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন। যদিও পরে শীর্ষ নেতৃত্বের চাপে তিনি লড়াইয়ে ফেরেন।সমালোচকদের গভীর পর্যবেক্ষণ, একজন প্রবীণ নেতা হিসেবে ভোটের ঠিক আগে তাঁর এই পিছু হটার মনোভাব এবং আজ ভোটের দিন মাঠ থেকে দৃশ্যত দূরত্ব বজায় রাখা স্পষ্ট ইঙ্গিত করে যে দলটির পায়ের তলার মাটি সম্পূর্ণ ধসে গিয়েছে এবং তারা দিন দিন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছে।
অবশ্য এই চরম সমালোচনার বিপরীতে দাঁড়িয়ে রবিউল আলম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ মহল ও দলটির একাংশ জানাচ্ছে, বিরোধীরা রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য দলটির অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়ার ভিত্তিহীন প্রচার চালাচ্ছে। তাদের দাবি, কোনো প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই নিজের নির্বাচনী কন্ট্রোল রুমে বসে সম্পূর্ণ বুথ ম্যানেজমেন্ট ও আইনি দিকগুলি মনিটর করেছেন প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। তাছাড়া, ভোটের দিন এলাকায় অশান্তি ও হুমায়ুন কবিরের গ্রেফতারির মতো ঘটনার আবহে প্রার্থীর সুরক্ষাও অন্যতম কারণ হতে পারে। আগামী ৯ অক্টোবর ভোট গণনার দিনই পরিষ্কার হবে যে এই শিবিরের ভবিষ্যৎ সত্যিই খাদের কিনারায় নাকি এর পেছনে অন্য কোনও সাংগঠনিক অঙ্ক কাজ করছে।
