Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

রেজিনগরে চরম নাটক! সকালে লড়াই ছাড়ার ঘোষণা, দুপুরে মমতার এক ফোনেই অভাবনীয় ‘ইউ-টার্ন’ রবিউলের!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ঘটে গেল এক রুদ্ধশ্বাস ও নজিরবিহীন রাজনৈতিক মোড়। শনিবার সকালে রণক্ষেত্র ছেড়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করার মাত্র দেড় ঘণ্টার মধ্যে, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি নির্দেশে ফের ভোটের ময়দানে বুক চিতিয়ে লড়াইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ (MAITC) প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী।

সকাল ১০.৫২ মিনিট (মাঠ ছাড়ার ঘোষণা): শনিবার সকালে সংবাদমাধ্যমের সামনে রবিউল আলম চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তিনি রেজিনগর উপনির্বাচনের লড়াই থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন এবং তাঁর মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের মমতাপন্থী প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঠিক পরের দিনই রবিউলের এই পিছু হটার ঘোষণায় রাজ্যজুড়ে তীব্র শোরগোল পড়ে যায়। বেলা সাড়ে ১২টা বাজতেই নাটকীয় মোড়! রবিউল আলম চৌধুরী নতুন বিবৃতি দিয়ে জানান, দলীয় সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে এবং ‘দিদি’-র নির্দেশেই তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিল করে লড়াইয়ের ময়দানেই থাকছেন।

সকালে প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের কথা বলার সময় রবিউল আলম চৌধুরী মূলত দুটি বড় কারণের কথা উল্লেখ করেছিলেন। নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি তৃণমূলের আদি নাম ও ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক ফ্রিজ করে দেওয়ায়, কালীঘাট শিবিরের জন্য নতুন নাম ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং নতুন প্রতীক ‘ফুটবলার’ বরাদ্দ করা হয়েছে। রবিউলের দাবি ছিল, আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচনের আগে এত কম সময়ে ভোটারদের কাছে এই নতুন প্রতীক পরিচিত করানো অত্যন্ত কঠিন কাজ। রবিউল অভিযোগ তুলেছিলেন যে, প্রশাসনের তরফ থেকে তাঁদের কর্মীদের ওপর লাগাতার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে ও ভয় দেখানো হচ্ছে।

দুপুরে সিদ্ধান্ত বদলের পর রবিউল আলম চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমি সকালে সরার কথা ভাবলেও পরে মমতাদি নিজেই আমার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। উনি আমাদের লড়াইয়ের ময়দানে টিকে থাকার সাহস জুগিয়েছেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে। দিদি নির্দেশ দিয়েছেন ভোট করার জন্য, এমনকি তিনি নিজে রেজিনগরে প্রচারে আসবেন বলেও জানিয়েছেন। এলাকায় আমার যদি ১০ জন কর্মীও থাকে, তাদের নিয়েই আমি শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।” বেলডাঙা থানা থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও আশ্বাসের বার্তা পাওয়ার পরেই রবিউল আলম চৌধুরী তাঁর কর্মীদের নিয়ে কোমর বেঁধে ‘ফুটবলার’ প্রতীক নিয়ে প্রচারের ময়দানে নামার কথা ঘোষণা করেন।

Exit mobile version