Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

গণতন্ত্রের লজ্জা! শুভেন্দু অধিকারীর ‘টিকিট কাটার’ বদদোয়া হুমায়ুন কবীরের! তীব্র ধিক্কার রাজনৈতিক মহলে!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মুর্শিদাবাদের নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র প্রধান হুমায়ুন কবীরের মুখে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মৃত্যুকামনার মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মুখ থেকে এই ধরনের অনভিপ্রেত ও হিংসাত্মক ভাষা প্রয়োগের ঘটনাকে তীব্র ভাষায় ধিক্কার জানাচ্ছে ওয়াকিবহাল মহল এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মুর্শিদাবাদে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চরম ক্ষোভ উগরে দেন হুমায়ুন কবীর। তিনি সরাসরি বলেন, “আমাদের যেমন এইভাবে তার (মুখ্যমন্ত্রীর) পুলিশ দিয়ে রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে, আমরা রাত জেগে জেগে লুকিয়ে বেড়াচ্ছি, চুরি করে বেড়াচ্ছে আমাদের কর্মীরা। তারা কী করবে? ওর জন্য বদদোয়া (অনিষ্ট কামনা) দেবে না তো ওর জন্য আরও প্রধানমন্ত্রী হোক তাই বলব? তো ওকে যত তাড়াতাড়ি উপরওয়ালা টিকিট কাটিয়ে দেয় ওরকম করে, সেইটার তো দোয়া করব।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রবিবারের এই বিস্ফোরক মন্তব্য কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বনাম হুমায়ুন কবীরের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও আইনি সংঘাতের চরম পরিণতি।

বিগত জুন মাসে রেজিনগরে একটি জনসভায় হুমায়ুন কবীর বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। তিনি প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, হাজার হাজার মুসলিমদের রাস্তায় নামিয়ে এমনভাবে প্রত্যাঘাত করবেন যে প্রতিপক্ষের দলের পতাকা তোলার লোক থাকবে না। হুমায়ুনের এই উসকানিমূলক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেঝেতে দাঁড়িয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “আমি ওকে এভাবে হুমকি দিয়ে কথা বলতে দেব না… এটাই ওর শেষ বক্তব্য হতে চলেছে।” এরপরই প্রশাসনের তরফ থেকে বিধায়কের বিরুদ্ধে রেজিনগর ও শক্তিপুর থানায় একাধিক সুয়োমোটো (Suo-moto) মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর থেকেই মুর্শিদাবাদ জুড়েই হুমায়ুন কবীরের দলীয় কর্মীদের ওপর পুলিশি তৎপরতা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি গত ২১ সেপ্টেম্বরও একটি মামলায় প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল হুমায়ুনকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, পুলিশি অভিযানের এই লাগাতার চাপ এবং কর্মীদের কোণঠাসা হয়ে পড়ার চরম হতাশা থেকেই এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুর প্রার্থনা করে বসলেন নওদার এই বিধায়ক।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, প্রশাসনের কাজের সমালোচনা বা রাজনৈতিক বিরোধিতা করার গণতান্ত্রিক অধিকার সবার আছে। কিন্তু আইনি কোণঠাসা হয়ে বা পুলিশি অভিযানের ভয়ে সরাসরি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করা আসলে সুস্থ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের ভাষার ব্যবহার সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলির অভ্যন্তরেও সংশ্লিষ্ট নেতার গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস করে। রবিবারের এই চরম আপত্তিকর মন্তব্যের পর বিধায়কের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা আরও জোরদার হলো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Exit mobile version