Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

গণনাকেন্দ্রে শুধুই পদ্ম-বাহিনীদের দাপট! ভোটের ফল আসার আগেই কেন বেপাত্তা তৃণমূল? উঠছে প্রশ্ন!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য। শুক্রবার সকালে গণনাকেন্দ্রের দরজা খুলতেই যে নজিরবিহীন ছবি সামনে এসেছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক তরজা ও জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। গণতন্ত্রের চূড়ান্ত পরীক্ষার দিনে রেজিনগরের গণনাকেন্দ্রে সম্পূর্ণ বেপাত্তা তৃণমূল কংগ্রেস এবং হুমায়ুন কবীরের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র কাউন্টিং এজেন্টরা। ভোটের ফলপ্রকাশের ঠিক আগের মুহূর্তে গণনাকেন্দ্রে তৃণমূলের এই রহস্যজনক ও নজিরবিহীন অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—তবে কি গণনাকেন্দ্রের ট্রেন্ড স্পষ্ট হওয়ার আগেই পরাজয় নিশ্চিত জেনে ময়দান ছাড়ল বিরোধীরা? এই ঘটনাকে হাতিয়ার করেই এবার সুর চড়িয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)।

গণনাকেন্দ্রে বিরোধী এজেন্টদের এই অনুপস্থিতি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছে পদ্ম শিবির। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নির্বাচনের আগে যারা বড় বড় দাবি করছিল, মানুষের রায় ইভিএম থেকে বেরোনোর আগেই তাদের এই অন্তর্ধান প্রমাণ করে যে তারা সাধারণ মানুষের সমর্থন হারিয়েছে। বিজেপির রাজনৈতিক মহলের মতে, পরাজয়ের গ্লানি এবং দলীয় কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়ার ভয়েই গণনা শুরুর আগেই কার্যত আত্মসমর্পণ করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। বিপরীতে, রেজিনগর এবং হাইপ্রোফাইল কেন্দ্র নন্দীগ্রাম—উভয় জায়গাতেই সকাল থেকে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও নিয়মানুবর্তিতার সাথে বুথ পাহারা দিচ্ছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) কাউন্টিং এজেন্টরা। বিজেপি শিবিরের দাবি, বর্তমান সরকারের জমানায় রাজ্যজুড়ে যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গণনা চলছে, এই চিত্র তারই বড় প্রমাণ।

রেজিনগরের গণনাকেন্দ্রে যেখানে তৃণমূল বা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির কাউন্টিং এজেন্টদের একটি টেবিলেও দেখা যায়নি, সেখানে সম্পূর্ণ উল্টো ছবি দেখা গিয়েছে শাসক শিবিরের অন্দরে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বিজেপির কাউন্টিং এজেন্টরা সমস্ত বুথের টেবিল আগলে বসে রয়েছেন। তবে এই কেন্দ্রে বিজেপির পাশাপাশি বামফ্রন্ট, জাতীয় কংগ্রেস এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূলের এজেন্টদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। একইভাবে নন্দীগ্রামের গণনাকেন্দ্রেও বিজেপি, বাম, কংগ্রেস ও গণতান্ত্রিক তৃণমূলের এজেন্টরা উপস্থিত থাকলেও, মূল ধারার তৃণমূল শিবিরের তৎপরতা সেভাবে চোখে পড়েনি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, গণনা শুরুর এই প্রাথমিক চিত্রই স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে রাজ্যের মানুষ এবার কোন দিকে রায় দিয়েছেন। বিরোধীদের এই মানসিক পরাজয় ইভিএমের চূড়ান্ত ফলাফলেও প্রতিফলিত হতে চলেছে কিনা, এখন সেটাই দেখার।

Exit mobile version