Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

কার সুতোয় চলত অভয়া কাণ্ডের ধামাচাপা? তৎকালীন ক্ষমতা অলিন্দকে বড় তদন্তের মুখে ফেললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আর জি কর হাসপাতালের অভয়া কাণ্ডের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের প্রশাসনিক যোগসূত্র খুঁজতে এবার সরাসরি তৎকালীন সরকারের শীর্ষ মহলে তদন্তের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নবান্নে আয়োজিত এক হাই-প্রোফাইল সাংবাদিক বৈঠক থেকে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ওই নৃশংস ঘটনার পর তথ্যপ্রমাণ ধামাচাপা দেওয়া, তড়িঘড়ি ময়নাতদন্ত ও দেহ সৎকার কিংবা তদন্তের মোড় ঘোরানোর চেষ্টার পিছনে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র দফতর, তৎকালীন কোনও মন্ত্রী কিংবা খোদ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও নির্দেশ ছিল কি না, তা এবার অক্ষরে অক্ষরে খতিয়ে দেখা হবে।

আইনি পরিধি সম্পূর্ণ বজায় রেখে এবং রাজ্য প্রশাসনের সরকারি রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই এই পদক্ষেপের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। মূল ফৌজদারি অপরাধের তদন্তটি যথারীতি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (CBI)-এর হাতেই থাকছে। তবে প্রাথমিক স্তরে রাজ্য পুলিশের কতিপয় কর্তার রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা এবং কার নির্দেশে অপরাধের প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা হয়েছিল, তা বের করতে এই নতুন বিভাগীয় তদন্ত শুরু করছে রাজ্য সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট বক্তব্য, আর জি কর কাণ্ডের ঠিক পর পর যেভাবে নিয়মবহির্ভূতভাবে তড়িঘড়ি ময়নাতদন্ত করা হয়েছিল এবং পরিবারের তীব্র আপত্তির তোয়াক্কা না করে দ্রুত দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তা কোনও সাধারণ প্রশাসনিক ভুল হতে পারে না। এই পুরো প্রক্রিয়ার পিছনে তৎকালীন শাসকদলের শীর্ষ স্তর থেকে কোনও বিশেষ চাপ বা প্রভাব খাটানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরকে পূর্ণাঙ্গ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।তদন্তকারী দল মূলত তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পদাধিকারীদের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগের ওপর আলোকপাত করছে। সে সময়ে কর্তব্যরত উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের মোবাইল কল ডিটেইলস (CDR) এবং ডিজিটাল চ্যাট গভীরভাবে পরীক্ষা করা হবে।

তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা তৎকালীন ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের দফতর থেকে তদন্তকারী আধিকারিকদের কাছে তদন্ত হালকা করার বা তথ্যপ্রমাণ গোপনের কোনও মৌখিক বা লিখিত নির্দেশ গিয়েছিল কি না, তা নির্দিষ্ট আইনি উপায়ে যাচাই করা হবে। তিলোত্তমা কাণ্ডের পর রাজ্য পুলিশের কিছু কর্তার বিরুদ্ধে নির্যাতিতার পরিবারকে অর্থ দিয়ে মুখ বন্ধ করানোর যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল, সেই কাজের পিছনে কার প্রশাসনিক সবুজ সংকেত ছিল, তাও এই তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে আর জি করের ঘটনার নেপথ্যে থাকা তৎকালীন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অস্বস্তি বহুগুণ বেড়ে গেল। কোনও রকমের অনুমানভিত্তিক বা বিতর্কিত মন্তব্য এড়িয়ে, সম্পূর্ণ আইনি ও প্রশাসনিক নথির ওপর ভিত্তি করে যেভাবে পুরনো ফাইলের জট খোলা হচ্ছে, তাতে আগামী দিনে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ মহলের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব বড়সড় আইনি তদন্তের মুখোমুখি হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

Exit mobile version