Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

আর জি করের ‘ক্রাইম সিন’-এ সিবিআই-এর থাবা: এমএসভিপি-র ঘরে ৪ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা, থরথর করে কাঁপছে অপরাধের পৃষ্ঠপোষকরা!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আর জি কর মেডিকেল কলেজের নারকীয় ঘটনার নেপথ্যে থাকা রাঘববোয়ালদের দিন গোনা শুরু হয়ে গেল। আদালতের নির্দেশে তদন্তভার হাতে নিয়েই আজ আর জি কর হাসপাতালে অতর্কিতে হানা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)। আর জি করের সেই অভিশপ্ত সেমিনার রুম অর্থাৎ ‘ক্রাইম সিন’ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিদর্শনের পাশাপাশি হাসপাতালের এমএসভিপি (MSVP)-র ঘরে ঢুকে টানা প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন জেরা ও বৈঠক চালালেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। বিগত দিনে বাংলায় যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির চাদরে অপরাধ আড়াল করার একটা নোংরা সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই পাপের সাম্রাজ্যে হাতুড়ি পড়তে শুরু করেছে। বর্তমান শাসক দলের স্পষ্ট বার্তা— অপরাধী বা তার মাথার ওপর থাকা প্রভাবশালী, কাউকেই রেয়াত করা হবে না। আজ সিবিআই-এর এই ঝোড়ো ব্যাটিং তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ।

ঘটনার রাতে ঠিক কী কী ঘটেছিল, প্রমাণ লোপাটের কোনো চেষ্টা হয়েছিল কি না— তা জানতে সেমিনার রুমের ইঞ্চি ইঞ্চি জায়গা খতিয়ে দেখলেন সিবিআই-এর ফরেনসিক ও তদন্তকারী দল।হাসপাতালের প্রশাসনিক প্রধানকে (MSVP) সামনে বসিয়ে প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে ফাইলের পর ফাইল ওল্টালেন গোয়েন্দারা। কার নির্দেশে কী কাজ হয়েছিল, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব নেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনার রাতের ডিউটি রোস্টার এবং মোবাইল টাওয়ার লোকেশনের সমস্ত ডেটা ইতিমধ্যেই নিজেদের হাই-টেক ল্যাবে পাঠিয়েছে সিবিআই। হাসপাতালের প্রাক্তন শীর্ষকর্তা থেকে শুরু করে ডিউটিতে থাকা ইন্টার্ন ও নিরাপত্তারক্ষী— কাউকেই ছাড়ছেন না গোয়েন্দারা।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এটাই ছিল অপরাধীদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। নতুন সরকারের জমানায় পুলিশ বা প্রশাসন আর কোনো ‘অদৃশ্য হাত’-এর ইশারায় প্রমাণ নষ্ট করতে পারবে না। আমজনতার দাবি, আর জি করের পবিত্র আঙিনাকে যারা কালিমালিপ্ত করেছে, সিবিআই এবার তাদের কলার ধরে টেনে বের করবেই। অপরাধীদের আড়াল করার দিন শেষ, এবার শুধু খাঁচা বদলের অপেক্ষা।

Exit mobile version