Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

আরজিকরে যমদূতের পর এবার জোচ্চোরের হানা: ট্রমা কেয়ারের সামনেই পকেট সাফ রোগীর আত্মীয়ের!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
তিলোত্তমার অন্যতম ব্যস্ত সরকারি হাসপাতাল আরজিকর কি তবে সাধারণ মানুষের কাছে এখন ত্রাসের অপর নাম? একের পর এক নজিরবিহীন ও মর্মান্তিক ঘটনায় এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে শহরজুড়ে। গত ২০ মার্চ হাসপাতালের ট্রমা বিল্ডিংয়ের লিফট বিপর্যয়ে এক রোগীর মৃত্যুর রেশ এখনও টাটকা। সেই অব্যবস্থা এবং গাফিলতি নিয়ে যখন রাজ্যজুড়ে তোলপাড় চলছে, ঠিক সেই আবহেই এবার খোদ হাসপাতাল চত্বরেই ঘটল এক দুঃসাহসিক ‘ছিনতাই’-এর অভিযোগ। হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক রোগীর আত্মীয়ের পকেট সাফ করলো এক প্রতারক।

ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। দমদম (মতান্তরে লেকটাউন) নিবাসী অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় নামক এক ব্যক্তি হাসপাতালের ট্রমা বিল্ডিংয়ের লিফটে ওঠার সময় যান্ত্রিক গোলযোগের জেরে ভেতরে আটকে পড়েন। অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লিফটের ভেতর রুদ্ধশ্বাস অবস্থায় কাটানোর পর তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও শেষরক্ষা হয়নি। এই ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। এই মৃত্যু সংবাদে যখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তুঙ্গে, ঠিক তখনই প্রকাশ্যে এল আর এক হাড়হিম করা শঠতার কাহিনী।

এবারের ঘটনার শিকার মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের এক বাসিন্দা। তিনি তাঁর আত্মীয়ের চিকিৎসার প্রয়োজনে ট্রমা কেয়ার ইউনিটের পাশে অপেক্ষারত রোগীদের আত্মীয়দের বসার জায়গায় ছিলেন। অভিযোগকারী জানিয়েছেন, এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি নিজেকে হাসপাতালের ‘কর্মী’ পরিচয় দিয়ে তাঁর কাছে আসে। নানা কথায় তাঁকে ভুলিয়ে এবং সাহায্যের অছিলায় বিশ্বাস অর্জন করে ওই প্রতারক। এরপর সুযোগ বুঝে ওই ব্যক্তির পকেট থেকে ৬ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিমেষের মধ্যে ভিড়ের মধ্যে মিলিয়ে যায় সে।

ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি অত্যন্ত সাধারণ ঘরের মানুষ এবং চিকিৎসার জরুরি প্রয়োজনেই ওই টাকাগুলি সঙ্গে রেখেছিলেন। প্রকাশ্য দিবালোকে এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই কীভাবে একজন নিজেকে ‘হাসপাতাল কর্মী’ পরিচয় দিয়ে এমন কাণ্ড ঘটাতে পারে, তা ভেবেই তিনি শিউরে উঠছেন।আরজিকরের মত একটি বড় সরকারি হাসপাতালে যেখানে ২৪ ঘণ্টা পুলিশি নজরদারি থাকার কথা, সেখানে কীভাবে বহিরাগতরা ছদ্মবেশে ঢুকে ছিনতাই করতে পারছে, তা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। লিফট দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর যেখানে নজরদারি আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে এই ছিনতাইয়ের অভিযোগ প্রমাণ করছে যে হাসপাতালের নিরাপত্তার বাঁধন কতটা আলগা।

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, লিফট থেকে ট্রমা কেয়ার—কোথাওই সাধারণ মানুষ নিরাপদ নয়। সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি এড়িয়ে কীভাবে এই ধরণের অসামাজিক কাজ চলছে, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রোগীর আত্মীয়রা।

পরপর ঘটে যাওয়া এই ঘটনাগুলি আর জি করের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড়সড় কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। লিফটে মৃত্যু হোক বা পকেট থেকে সর্বস্ব খোয়ানো—সাধারণ মানুষ এখন হাসপাতালে ঢুকতে রীতিমত আতঙ্ক বোধ করছেন। প্রশাসন কবে নড়েচড়ে বসবে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরে আসবে, এখন সেটাই দেখার।

Exit mobile version