Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

আরজিকরের নির্যাতিতার মায়ের বিরুদ্ধেই এবার রণংদেহি মেজাজে মমতা? পানিহাটির হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে নতুন মোড়!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনীতিতে কি এবার সৌজন্যের সংজ্ঞাই বদলে যেতে চলেছে? আরজিকরের সেই নৃশংস ঘটনার ক্ষত আজও প্রতিটি বাঙালির মনে টাটকা। বিচার পাওয়ার আশায় এক বুক হাহাকার নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এক অভাগা মা। কিন্তু সেই মা যখন তাঁর সন্তানের বিচারের দাবিতে জনসমক্ষে সরব হন, তখন শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে আসছে ‘অসৌজন্যের’ তকমা। বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু মন্তব্য ঘিরে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। সরাসরি নাম না নিলেও রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন—মুখ্যমন্ত্রী কি কৌশলে পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী তথা আরজিকরের নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথকেই নিশানা করলেন?

পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন এখন আর পাঁচটা সাধারণ নির্বাচনের মত নেই। এখানে একদিকে রয়েছে তৃণমূলের বিশাল সংগঠন, আর অন্যদিকে রয়েছে এক সন্তানহারা মায়ের আকাশসমান যন্ত্রণা। আরজি করের সেই অভয়ার মা যখন বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হলেন, তখনই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে লড়াইটা হবে সরাসরি নবান্নের বিরুদ্ধে। তিনি বারবার অভিযোগ করেছেন, তাঁর মেয়ের বিচারের পথে মূল বাধা খোদ প্রশাসন। তিনি প্রকাশ্যেই শপথ নিয়েছেন, যতক্ষণ না বিচার পাচ্ছেন, ততক্ষণ তিনি চুল বাঁধবেন না। প্রচারের ময়দানে এই মায়ের করা কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এখন সংঘাত চরমে।

বৃহস্পতিবার পানিহাটির মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নেন। তিনি বলেন, “আপনাদের দরকার তৃণমূল সরকার। কিন্তু মনে রাখবেন, ভোটে কেউ প্রার্থী হলে তাঁর নিজের কথা বলার অধিকার রয়েছে। তবে রাজনীতির আঙিনায় সৌজন্যের একটা সীমারেখা থাকা উচিত। আমি কাউকে কটূক্তি করব না, আপনারাও দয়া করে সেই সীমা মেনে চলবেন।” মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য সরাসরি অভয়ার মাকে উদ্দেশ্য করে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

ইতিমধ্যেই শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়ে দাবি করেছেন, বিজেপি প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা প্রয়োগ করেছেন। তৃণমূলের দাবি, একজন বিচারপ্রার্থী মা হওয়ার সুযোগ নিয়ে তিনি নাকি গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করছেন। পাল্টাপাল্টি হিসেবে বিজেপি শিবিরের প্রশ্ন—যে মা নিজের একমাত্র সন্তানকে হারিয়েছেন, তাঁর মুখ থেকে কি সবসময় প্রশাসনের প্রতি মধুর ভাষা প্রত্যাশা করা যায়? নাকি সেই যন্ত্রণাকে ‘অসৌজন্য’ বলে দেগে দিয়ে আসলে মূল বিচার পাওয়ার আন্দোলনকেই ছোট করতে চাইছে শাসক দল?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পারছেন যে পানিহাটিতে ‘অভয়ার মা’ ফ্যাক্টর তৃণমূলের অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তাই সরাসরি তাঁকে আক্রমণ না করে ‘সৌজন্যের’ প্রলেপ দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন তিনি। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থীর লড়াই এখন আর শুধু দলের লড়াই নয়, তা হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার এক প্রতীকী সংগ্রাম।

পানিহাটির অলিগলিতে এখন একটাই আলোচনা—যিনি বিচারের দাবিতে সরব, তিনি কি সত্যিই ‘অসৌজন্য’ করছেন? নাকি সৌজন্যের দোহাই দিয়ে আসলে এক মায়ের আর্তনাদকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে? আগামী ভোটই বলে দেবে, মানুষ কি মুখ্যমন্ত্রীর ‘সৌজন্যের বাণী’তে বিশ্বাস করবে, নাকি অভয়ার মায়ের সেই বিষণ্ণ চোখের জলের মর্যাদা দেবে।

Exit mobile version