Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

সৌজন্যের রাজনীতি না কি মোহভঙ্গ? ঋজু দত্তের মুখে বিজেপির গুণগান, বিরোধী দলনেতার কাছে চাইলেন ক্ষমা!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর যখন রাজ্য রাজনীতিতে মেরুকরণ এবং উত্তপ্ত বাদানুবাদ তুঙ্গে, তখনই এক বিস্ফোরক এবং অভূতপূর্ব ভিডিও বার্তা দিয়ে সবাইকে চমকে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত মুখ তথা মুখপাত্র ঋজু দত্ত। যে বিজেপিকে এতদিন তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন, আজ সেই গেরুয়া শিবিরের ‘রাজনৈতিক সৌজন্য’ দেখে মুগ্ধ ঋজু। স্পষ্ট ভাষায় তিনি বললেন, “বিজেপির অবদানের কথা না বললে আমি পাপ করব।”

ঋজু দত্ত তাঁর ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, কঠিন সময়ে যখন তাঁর নিজের দলের অনেকেরই দেখা পাওয়া যায়নি, তখন বিজেপির সর্বস্তরের নেতৃত্ব তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর কথায়, “বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরের নেতারা বারবার হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে আমার খোঁজ নিয়েছেন। আমার বা আমার পরিবারের কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, তা জানতে চেয়েছেন। এই সৌজন্য আমি অস্বীকার করতে পারব না।”

সবচেয়ে বড় চমক ছিল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি তাঁর বার্তা। অতীতে বিভিন্ন টেলিভিশন ডিবেট বা সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে যে ভাষায় তিনি আক্রমণ করেছিলেন, তার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন ঋজু। তিনি স্বীকার করেছেন, অনেক সময় ‘চাপে পড়ে’ বা পরিস্থিতির শিকার হয়ে তাঁকে ওই ধরণের কটু মন্তব্য করতে হয়েছিল।

নিজের ভিডিওতে ঋজু দত্ত একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, তাঁর গাড়ি যখন বিজেপির বিজয় মিছিলের মাঝখানে পড়ে গিয়েছিল, তখন বিজেপি কর্মীরা তাঁকে কোনো হেনস্থা না করে বরং যাওয়ার রাস্তা করে দেন। অথচ তাঁর বাড়ির সামনে যারা গালিগালাজ বা হুমকি দিচ্ছে, তাদের তিনি তৃণমূলের সুযোগসন্ধানী অংশ হিসেবেই ইঙ্গিত করেছেন। তাঁর দাবি, যারা তৃণমূলের হয়ে দাপিয়ে বেড়াত, তারাই এখন জার্সি বদলে বিজেপি সেজে তাঁকে ভয় দেখাচ্ছে।

ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ‘বেসুরো’ সুর শোনা যাচ্ছে। মনোজ তিওয়ারি বা দেব-এর পর ঋজু দত্তের এই মন্তব্য কি কেবলই ব্যক্তিগত সৌজন্য বিনিময়, না কি নেপথ্যে বড় কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলার অলিতে-গলিতে।

নিজের ভিডিওর শেষে ঋজু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যে বিজেপি তাঁর বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করাটা অধর্ম হবে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে এই সৌজন্যবোধ এখন রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।

Exit mobile version