প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন— তবে কি এবার চূড়ান্ত বিচ্ছেদ হতে চলেছে কালীঘাটের সঙ্গে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা ‘আস্থাভাজন’ বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্টর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র রহস্য। আর সেই রহস্যের আবহেই এক বিস্ফোরক ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের মুখ তথা বিধানসভার বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজনৈতিক অলিন্দের অন্দরের খবর, শুক্রবার দুপুরে বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই বৈঠকের পরেই নাকি ঋতব্রত শিবিরের এক প্রভাবশালী বিধায়ক সরাসরি ফোন ঘোরান বীরভূমে। ওপ্রান্তে ছিলেন খোদ অনুব্রত মণ্ডল। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, সেই ফোনেই নাকি ঋতব্রত শিবিরের ‘আসল তৃণমূল’-এর বীরভূম জেলা সভাপতি পদের জন্য অনুব্রতর সম্মতি চাওয়া হয় এবং কেষ্টও তাতে সবুজ সংকেত দিয়ে দিয়েছেন!
অনুব্রত মণ্ডলের এই নয়া শিবিরে নাম লেখানোর জোরদার জল্পনা নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, তখন সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুব্রতর সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগের কথা আড়াল করেননি তিনি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা সুকৌশলে গোপন রেখে ঋতব্রত শুধু বলেন, “কেষ্টদা একজন অত্যন্ত দক্ষ সংগঠক। কেষ্টদাকে আমি নেতা মানি।” এর বেশি কোনো তথ্য এখনই খোলসা করতে নারাজ তিনি। অনুব্রতর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত স্তরে কী কথা হয়েছে, তা নিয়ে সাসপেন্স বজায় রেখে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তাঁর সংক্ষিপ্ত বার্তা, “একটা দিন শুধু অপেক্ষা করুন।”
ঋতব্রতর এই ‘অপেক্ষা’ করার বার্তার পাশাপাশি তাঁদের শিবিরের আরেক শীর্ষনেতা আখরুজ্জামান সাফ জানিয়েছেন, “শনিবারই দুধ কা দুধ, পানি কা পানি হয়ে যাবে।” কাকতালীয়ভাবে, আজ শনিবারই ঋতব্রত শিবিরের জাতীয় কর্মসমিতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের অনুমান, বীরভূমের কাজল শেখ, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও চন্দ্রনাথ সিংহের পর এবার অনুব্রত মণ্ডলের এই শিবিরে আনুষ্ঠানিক যোগদানের বড় ঘোষণা আসতে পারে আজ এই বৈঠক থেকেই।
এখন গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের নজর আটকে রয়েছে ঋতব্রতদের আজকের এই হাইপ্রোফাইল বৈঠকের দিকে। দিদির একদা ‘স্নেহধন্য’ ভাই কেষ্ট কি সত্যিই আজ তাঁর মাথায় অক্সিজেনের বদলে নয়া শিবিরের ছাতা ধরবেন? উত্তর মিলবে কিছুক্ষণের মধ্যেই।
