Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

৬৫ বিধায়ক পকেটে! স্পিকারের বৈঠকে সগৌরবে ঋতব্রত, ঘাড় ধাক্কা খেল কালীঘাট ব্রিগেড!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলায় ক্ষমতার হাতবদল এবং বিজেপি সরকার গঠনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমীকরণ ইতিমধ্যেই বদলে গেছে। আর এবার বিধানসভার অলিন্দেও চূড়ান্ত কোণঠাসা হয়ে পড়ল মমতাপন্থী অবশিষ্ট তৃণমূল শিবির। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে চলা বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের আগে নতুন স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর ডাকা সর্বদলীয় বৈঠক এবং বিজনেস অ্যাডভাইজরি (BA) কমিটির বৈঠককে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ ধুয়েমুঁছে গেল কালীঘাটের একক দাপট।মমতাপন্থী শিবিরের মনোনীত নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষদের বিধানসভার এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। স্পিকারের এই বৈঠকে তাঁদের ডাকার কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা দেখেনি বিধানসভা সচিবালয়। পরিবর্তে, স্পিকারের ঠিক ডানদিকে সগৌরবে হাজির হলেন তৃণমূলের সিংহভাগ বিধায়কদের আস্থাভাজন এবং বিধানসভার নতুন বিরোধী দলনেতা (LoP) ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

গণতন্ত্র চলে সংখ্যার জোরে, কোনো একক গোষ্ঠীর হুমকিতে নয়। বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূলের ভেতরে যে বড়সড় ভাঙন ধরেছিল, তা এখন বিধানসভার ভেতরেও স্পষ্ট। তৃণমূলের মোট বিধায়কদের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ৬৫ জন বিধায়ক প্রকাশ্যেই মমতাপন্থী শীর্ষ নেতৃত্বকে বয়কট করে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের পরিষদীয় নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ফলে নতুন স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু সম্পূর্ণ আইনি ও পরিষদীয় নিয়ম মেনেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে বিরোধী দলনেতার সরকারি স্বীকৃতি তুলে দিয়েছেন এবং তাঁর শিবিরকেই প্রধান বিরোধী দল হিসেবে গণ্য করছেন। এই বৈঠকে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে মমতার সাধের পুরনো দুর্গ। জাভেদ খান, গোলাম রব্বানী, সাবিনা ইয়াসমিন এবং আখরুজ্জামানের মতো তৃণমূলের সংখ্যালঘু ও হেভিওয়েট বিধায়করা এখন পুরনো নেতৃত্বের পাশ থেকে সরে এসে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিক্ষুব্ধ শিবিরে শামিল হয়েছেন। এছাড়া আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীররাও এই বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরেই সুর মিলিয়েছেন। স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, বিধানসভার ভেতরে তৃণমূলের রাশ এখন আর কালীঘাটের নিয়ন্ত্রণে নেই।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে তৃণমূল কংগ্রেসের মমতাপন্থী অংশটি এখন বিধানসভার ভেতরে পুরোপুরি প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। কুণাল ঘোষরা বাইরে সংবাদমাধ্যমের সামনে যতই গলা ফাটান না কেন, বিধানসভার ভেতরে আইনি ও গাণিতিক সংখ্যার নিরিখে তাঁদের কোনো আধিপত্য আর অবশিষ্ট নেই। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের এই দাপট প্রমাণ করছে যে, ১৮ জুন থেকে শুরু হতে চলা বাজেট অধিবেশনে পিসি-ভাইপোর অনুগামী বিধায়করা নিজেদের আসল রাজনৈতিক অস্তিত্বটুকু কতটা বাঁচাতে পারবেন, তা নিয়ে বড়সড় সংশয় তৈরি হয়েছে।

Exit mobile version