প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য রাজনীতিতে এবার বিধানসভার অন্দরেও শুরু হয়ে গেল চরম সমীকরণ বদলের খেলা। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মোট ৪১টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির (Standing Committees) খোলনলচে বদলে ফেলে নয়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আর সেই তালিকাতেই দেখা গেল এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড়। ৪১টি কমিটির মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১০টি কমিটির চেয়ারম্যান পদ তুলে দেওয়া হলো বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরের (ঋতব্রত তৃণমূল) হাতে। অন্যদিকে, চরম রাজনৈতিক কোপে পড়ে এই ৪১টি কমিটির কোথাও কোনো জায়গাই পেল না তথাকথিত ‘কালীঘাটপন্থী’ আদি তৃণমূল শিবির। বিধানসভার অন্দরে ক্ষমতার এই অলিখিত মেরুকরণ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে এই মুহূর্তে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে।
বিধানসভা সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সংসদীয় নিয়ম ও দলগত শক্তির ভারসাম্য বজায় রেখেই এই নতুন কমিটিগুলি গঠন করা হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশটিকে মূল বিরোধী দলের মর্যাদা ও গুরুত্ব দিয়ে এই ১০টি কমিটির চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয়েছে। কমিটি গঠনের এই মেগা প্রক্রিয়ার পর আগামী পদক্ষেপ হিসেবে তৎপরতা দেখিয়েছেন বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসু। আগামী ১১ই আগস্ট (মঙ্গলবার) নবনিযুক্ত এই ১০ জন কমিটির চেয়ারম্যান সহ অন্যান্য চেয়ারম্যানদের নিয়ে বিধানসভায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছেন অধ্যক্ষ। ওই দিনই চেয়ারম্যানদের কাজের এক্তিয়ার ও রূপরেখা স্পষ্ট করে দেওয়া হবে। স্পিকারের এই মেগা বৈঠক শেষ হওয়া মাত্রই আনুষ্ঠানিকভাবে দফতরভিত্তিক অডিট ও নজরদারির কাজ শুরু করে দেবে এই ৪১টি কমিটি।
এই সিদ্ধান্তের পর সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি খেয়েছে কালীঘাটের অনুগামী বলে পরিচিত আদি তৃণমূলের বিধায়করা। নতুন বিজেপি সরকারের জমানায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক প্রতিপত্তির জেরে বিধানসভার সংসদীয় কমিটি থেকেও কার্যত ঘাড়ধাক্কা দেওয়া হলো কালীঘাটপন্থী শিবিরকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় কমিটিতে কোনো জায়গা না পাওয়ার অর্থ হলো রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের ওপর নজরদারি চালানো বা নীতিনির্ধারণের প্রক্রিয়ায় কালীঘাটের আর কোনো আইনি ক্ষমতা থাকল না। খোদ বিধানসভার অলিন্দেও যে মমতা-পন্থী তৃণমূল কার্যত অস্তিত্বের সংকটে এবং একঘরে হয়ে পড়ছে, এই ঘটনা তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ।
এই বিষয়ে নতুন বিজেপি সরকারের সংসদীয় মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বিধানসভার নিয়মাবলী (Rules of Business) মেনেই প্রতিটি কমিটির সদস্য ও চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয়েছে। যারা সংসদীয় রীতিনীতি মেনে গঠনমূলক বিরোধিতার পথে হাঁটছেন, তাঁরাই যোগ্য সম্মান পেয়েছেন। অন্যদিকে, ১১ই আগস্ট স্পিকার রথীন্দ্র বসুর ডাকা বৈঠককে কেন্দ্র করে এখন বিধানসভা চত্বরে সাজ সাজ রব। ঋতব্রত শিবিরের এই ১০ জন চেয়ারম্যান কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের (যেমন পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি বা এস্টিমেট কমিটি) রাশ হাতে পান, সেদিকেই এখন নজর তামাম রাজনৈতিক মহলের।
