Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

রণক্ষেত্র ভাঙড়: নৌশাদের সভায় তৃণমূলের হামলা, উত্তপ্ত বিধানসভা ভোটের ময়দান!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই ফের অশান্তির চেনা ছকে ফিরল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়। এদিন ভাঙড় বিধানসভা এলাকায় ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF) এবং তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে নতুন করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল গোটা এলাকা। একদিকে আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকির অনুগামীদের ওপর হামলার অভিযোগ, অন্যদিকে তৃণমূল নেতার গ্যারাজে পাল্টা ভাঙচুর— সব মিলিয়ে ভোটের আগেই রক্তক্ষয়ী রাজনীতির সাক্ষী থাকল ভাঙড়।

গতকাল ভাঙড়ে আইএসএফ প্রার্থী নৌশাদ সিদ্দিকির একটি নির্বাচনী সভা ছিল। অভিযোগ, সভা শেষ করে যখন আইএসএফ কর্মীরা নিজেদের বাড়ির পথে ফিরছিলেন, তখনই তাঁদের পথ আটকায় তৃণমূল আশ্রিত একদল দুষ্কৃতী। নৌশাদ সিদ্দিকির সরাসরি অভিযোগ, স্থানীয় দাপুটে তৃণমূল নেতা খাইরুল ইসলামের নেতৃত্বে লাঠিসোঁটা, রড এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আইএসএফ কর্মীদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় বেশ কয়েকজন কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন এবং তাঁদের বেশ কিছু বাইক ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পালটা প্রতিরোধ গড়ে তোলে আইএসএফ কর্মীরাও। অভিযোগ উঠেছে, এর প্রতিক্রিয়ায় উত্তেজিত জনতা তৃণমূল নেতা খাইরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গ্যারাজে হানা দেয়। সেখানে থাকা একের পর এক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। গ্যারাজের ভেতরে থাকা দামী গাড়িগুলি এখন কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, আইএসএফ কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এই তাণ্ডব চালিয়েছে এবং এলাকায় বোমাবাজি করে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

এই ঘটনায় ঘি ঢেলেছেন ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক তথা তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা সওকত মোল্লা। তিনি নৌশাদ সিদ্দিকিকে সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, “আইএসএফ প্রার্থী এলাকায় ঘুরে ঘুরে উস্কানিমূলক ভাষণ দিয়ে দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করছেন। তাঁর নির্দেশেই আমাদের নেতার গ্যারাজে হামলা হয়েছে এবং কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট করা হয়েছে।” পরিস্থিতি সামাল দিতে নৌশাদ সিদ্দিকিকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার দাবি তুলেছে তৃণমূল শিবির।

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে এলাকায় তড়িঘড়ি মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। তবে উত্তেজনা না কমায় তড়িঘড়ি নামানো হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। শুক্রবার সকাল থেকেই বুট আর বন্দুকের শব্দে কাঁপছে ভাঙড়ের অলিগলি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে রুট মার্চ শুরু করেছেন।

স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল এবং আইএসএফ-এর এই লড়াই আসলে “এলাকা দখলের নোংরা রাজনীতি”। বিজেপির এক নেতার কথায়, “উভয় পক্ষই চায় পেশিশক্তির জোরে সাধারণ মানুষের ভোট লুট করতে। কিন্তু ভাঙড়ের মানুষ এবার শান্তির পক্ষে ভোট দেবে। কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকায় তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী এবার সফল হবে না।”

Exit mobile version