প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার ঘিরে মঙ্গলবার সকালে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এন্টালি বিধানসভা কেন্দ্রের ধাপা এলাকা। এদিন সকালে বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল দলীয় কর্মীদের নিয়ে প্রচারে বেরোলে তাঁকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় পরিস্থিতি সামাল দিতে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল ইএম বাইপাস সংলগ্ন ধাপা এলাকায় পা রাখতেই একদল লোক তাঁকে বাধা দেন। অভিযোগ উঠেছে যে, একদল মহিলা মারমুখী হয়ে প্রার্থীর দিকে তেড়ে আসেন। দুই পক্ষের মধ্যে প্রবল ধাক্কাধাক্কি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। বিজেপি কর্মীদের দাবি, তাঁদের পতাকা ও ফেস্টুন ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে এবং মহিলা কর্মীদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা দেওয়াল হয়ে দাঁড়ান এবং উত্তেজিত জনতাকে সরিয়ে প্রার্থীকে রক্ষা করেন।
প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল অভিযোগ করেছেন, “তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রচার করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।” এই ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপি কর্মীরা পরবর্তীতে লালবাজারে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তৃণমূল নেতৃত্ব এই সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাঁদের দাবি, “সাধারণ মানুষই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিজেপি প্রার্থীর জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। এর পেছনে তৃণমূলের কোনো যোগ নেই।”
এদিনের এই ঘটনাকে নিছকই এক বিচ্ছিন্ন বিক্ষোভ হিসেবে দেখছে না রাজনৈতিক মহল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে কাজ করছে গভীরতর সমীকরণ। ধাপা ও সংলগ্ন এলাকাগুলি কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক ভোটব্যাঙ্ক বড় ভূমিকা পালন করে। বিজেপির পক্ষ থেকে প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের মতো লড়াকু প্রার্থীকে দাঁড় করানোর লক্ষ্যই ছিল এই ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরানো। আজকের এই বাধা সেই রাজনৈতিক লড়াইয়েরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, আজকের বিক্ষোভে মহিলাদের সামনের সারিতে দেখা গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত কৌশল হতে পারে যাতে ‘মহিলা বনাম মহিলা’ লড়াই হিসেবে বিষয়টিকে তুলে ধরা যায় এবং সরাসরি পুলিশি হস্তক্ষেপ বা পুরুষ কর্মীদের ওপর দায় না আসে। প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল ভবানীপুর উপনির্বাচন থেকেই নিজেকে একজন লড়াকু নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, তাঁকে বারবার বাধা দেওয়ার মাধ্যমে একদিকে যেমন তাঁর প্রচার থামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, অন্যদিকে এটি বিজেপিকে ‘ভিক্টিম কার্ড’ খেলার সুযোগ করে দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে কলকাতার বুকেই যদি একজন হেভিওয়েট প্রার্থী এমন বাধার মুখে পড়েন, তবে অন্যান্য স্পর্শকাতর বুথগুলিতে নিরাপত্তা বজায় রাখা নির্বাচন কমিশনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল।
বর্তমানে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এন্টালির রাজনৈতিক পারদ যে কয়েক গুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।
