প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার রেশ কাটতে না কাটতেই ইভিএম (EVM) সুরক্ষাকে কেন্দ্র করে তুলকালাম শুরু হল কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে। গতকাল বিকেলে স্ট্রংরুমের ভেতর ‘সন্দেহজনক গতিবিধি’ এবং কারচুপির গুরুতর অভিযোগে রাতভর চলল ধরণা, স্লোগানযুদ্ধ এবং চরম উত্তেজনা।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে যেখানে ইভিএম মজুত রয়েছে, সেখানে সিসিটিভি ফুটেজে কিছু অপরিচিত ব্যক্তিকে দেখা গেছে। তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং ডঃ শশী পাঁজা দাবি করেন যে, তাঁদের এজেন্টদের না জানিয়েই স্ট্রংরুমের ভেতর নথিপত্র নাড়াচাড়া করা হচ্ছে।
অভিযোগ ওঠার পরই কেন্দ্রের প্রধান গেটের বাইরে অবস্থানে বসেন কুণাল ঘোষ এবং শশী পাঁজা। তাঁরা দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট করতে হবে যে গেট সিল থাকা সত্ত্বেও ভেতরে কারা এবং কেন ঢুকেছে।
বিক্ষোভ চলাকালীনই সেখানে পৌঁছান বিজেপি প্রার্থী তাপস রায় এবং সন্তোষ পাঠক। একে তৃণমূলের ‘পরাজয় নিশ্চিত জেনে নাটক’ বলে কটাক্ষ করে বিজেপি। দুই পক্ষের সমর্থক ও স্লোগান পাল্টায় এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। ভারী বৃষ্টি উপেক্ষা করেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয় পরিস্থিতি সামাল দিতে।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়: সব ইভিএম স্ট্রংরুম সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং সিল করা অবস্থায় আছে। সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেছে, তা আসলে নিয়ম মেনে পোস্টাল ব্যালট সেগ্রিগেশন বা পৃথকীকরণের কাজ ছিল। এই কাজের বিষয়ে সমস্ত রাজনৈতিক দলকে আগেই ইমেলের মাধ্যমে জানানো হয়েছিল।
কমিশনের আশ্বাসের পর এবং সিসিটিভি মনিটর বাইরে বসানোর প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর রাত গভীর হলে অবস্থান তুলে নেওয়া হয়। তবে কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন যে, ৪ মে গণনার দিন পর্যন্ত তাঁদের কর্মীরা সজাগ দৃষ্টিতে চব্বিশ ঘণ্টা পাহারা দেবেন। বর্তমানে ওই এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
