Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

তৃণমূলের ‘আসল’ ভোটব্যাঙ্কেই চরম আঘাত! ঋতব্রতের নতুন মহিলা কমিটির সভানেত্রী পদে কোন হেভিওয়েট চমক?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনীতির রাশ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণ করে রাজ্যের বিপুল মহিলা ভোটব্যাঙ্ক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্তির অন্যতম প্রধান উৎস হলো এই নারী শক্তি। এবার ঠিক সেই জায়গাতেই প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’ শিবির। কালীঘাটের একক আধিপত্যকে তছনছ করতে সমান্তরাল ‘রাজ্য মহিলা তৃণমূল কংগ্রেস’ কমিটি ঘোষণা করে দিল বিদ্রোহীরা। আর এই কমিটির শীর্ষ পদে এমন এক লড়াকু নেত্রীকে আনা হয়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।

বিদ্রোহী শিবিরের নতুন রাজ্য মহিলা কমিটির সর্বোচ্চ পদ অর্থাৎ ‘সভানেত্রী’ করা হয়েছে উত্তরবঙ্গের অত্যন্ত দাপুটে এবং পরিচিত মুখ সাবিনা ইয়াসমিনকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, মালদহ তথা উত্তরবঙ্গের সংখ্যালঘু এবং সাধারণ মহিলা ভোটারদের নিজেদের দিকে টানতেই সাবিনাকে সামনে রেখে এই মাস্টারস্ট্রোক দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র মহিলা ভোটব্যাঙ্কে ধস নামানোই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

চমকের এখানেই শেষ নয়। উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের মহিলা ভোটারদের প্রভাবিত করতে অত্যন্ত সতর্কভাবে ঘুঁটি সাজিয়েছে নতুন এই কমিটি। সাবিনা ইয়াসমিনের সহযোগী তথা নতুন মহিলা কমিটির ‘কার্যকরী সভানেত্রী’ (Working President) পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হেভিওয়েট নেত্রী শিউলি সাহাকে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের এই দুই লড়াকু নেত্রীকে যৌথভাবে সামনে এনে ঘাসফুল শিবিরের মহিলা ভোটব্যাঙ্কের সমীকরণ এক ধাক্কায় বদলে দিতে চাইছে ঋতপন্থী গোষ্ঠী।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা খুব ভালো করেই জানেন যে, বাংলায় তৃণমূলকে দুর্বল করতে হলে তাদের মহিলা ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসানো আবশ্যিক। আর সেই কারণেই সম্পূর্ণ নতুন এবং নিজস্ব ভাবমূর্তির এই মহিলা কমিটি গঠন করা হলো। নতুন এই কমিটির নেতারা ইতিমধ্যেই বুথ স্তরে গিয়ে দলের আদি ও বঞ্চিত মহিলা কর্মীদের নিজেদের পক্ষে টানার কাজ শুরু করে দিয়েছেন। এই নতুন কমিটির আত্মপ্রকাশের পর তৃণমূলের অন্দরে মহিলা মহলে কতটা ভাঙন ধরে, এখন সেটাই দেখার।

Exit mobile version