প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি সরকারি জমি জালিয়াতি ও কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি মামলায় এবার এক নজিরবিহীন এবং অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর মোড়! আজ, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ধৃত সুমিত রায়কে মেদিনীপুর জেলা আদালতে পেশ করার সময় এক অতি বিস্ফোরক দাবি করেছে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID)। আদালতে পেশ করা সিআইডির অফিশিয়াল ফরওয়ার্ডিং লেটার এবং তদন্ত রিপোর্টে সরাসরি নাম উঠেছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের!গোয়েন্দাদের দাবি, হেফাজতে থাকা অবস্থায় টানা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ে খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায় এই বিপুল আর্থিক লেনদেন নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন।
মেদিনীপুর আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সিআইডি তাদের ফরওয়ার্ডিং লেটারে উল্লেখ করেছে যে, জেরা চলাকালীন সুমিত রায় স্পষ্ট দাবি করেছেন—সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি নির্দেশেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) দলীয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই বিপুল পরিমাণ টাকা জমা পড়েছিল। সুমিত রায়ের বয়ান অনুযায়ী, সাংসদের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে পরিচিত ‘টি ঘোষ’ নামে এক ব্যক্তি তাঁর হাতে নগদ ৭ কোটি টাকা তুলে দিয়েছিলেন এবং নির্দেশ দিয়েছিলেন তা যেন এই অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়। সুমিতের দাবি, তিনি কেবল দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সেই নির্দেশই পালন করেছিলেন এবং ব্যাঙ্কে টাকা জমা দিয়েছিলেন। জমি জালিয়াতির কোনো টাকা তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে নেননি।
পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে ভুয়ো রবার স্ট্যাম্প, জাল নথি ও সরকারি সিল ব্যবহার করে প্রায় ১০০ একরেরও বেশি সরকারি, বনদপ্তর ও শ্মশানের জমি বেআইনিভাবে বিক্রি ও হস্তান্তর করার অভিযোগ ওঠে। এই মামলায় মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা গ্রেফতার হওয়ার পর তদন্তে আর্থিক লেনদেনের সূত্রে সুমিত রায়ের নাম সামনে আসে। সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ উঠতেই গত ১০ সেপ্টেম্বর কলকাতার কালীঘাট এলাকা থেকে সুমিত রায়কে গ্রেফতার করে সিআইডি। আদালতে ৮ দিনের সিআইডি হেফাজত শেষে আজ তাঁকে পুনরায় মেদিনীপুর জেলা আদালতে হাজির করানো হলে সিআইডি এই ফরওয়ার্ডিং লেটার জমা দেয়।
যেহেতু সিআইডি খোদ আদালতের নথিতে (Forwarding Letter) এই বয়ানের উল্লেখ করেছে, তাই রাজনৈতিক মহলে চরম শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ধৃতের আইনজীবীরা অবশ্য এই অভিযোগ নিয়ে ভিন্ন সওয়াল করছেন। শুনানি শেষে বিচারক আজ ধৃত সুমিত রায়কে পুনরায় ৫ দিনের সিআইডি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে আবার আদালতে পেশ করা হবে। তদন্তকারীদের ইঙ্গিত, ৭ কোটি টাকার উৎস নিয়ে সুমিতের দেওয়া তথ্য সঠিক প্রমাণিত হলে মামলার তদন্তের স্বার্থে আগামী দিনে খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তলব করা হতে পারে।
