Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

শমীকের ‘ব্যান্ড পার্টি’ মন্তব্যে খোদ গেরুয়া শিবিরেই চরম বিরক্তি! নীতি-আদর্শের দেউলিয়াপনা নিয়ে উঠছে কঠিন প্রশ্ন!

 

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ কোয়েল মল্লিকের বিজেপিতে যোগদান এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে রাজ্যসভার উপনির্বাচনে টিকিট দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে দলের অন্দরেই। আর সেই ক্ষোভ চাপা দিতে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য যে সমস্ত যুক্তি খাড়া করেছেন, তা নিয়ে এবার চরম বিরক্তি ও অসন্তোষ প্রকাশ পেতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে। অন্য দল থেকে নেতা ভাঙিয়ে এনেই দ্রুত ‘পুরস্কার’ দেওয়ার এই চেনা ট্রেন্ডের সপক্ষে শমীকের বয়ান শুনতে শুনতে এখন সকলেই বীতশ্রদ্ধ, এমনটাই দাবি সমালোচকদের।

কোয়েল মল্লিকের মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর যখন ‘বিজেপির তৃণমূলীকরণ’ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়, তখন শমীক ভট্টাচার্য সাফাই দিয়ে বলেছিলেন, “আমরা তো হরিনাম সংকীর্তন করতে আসিনি। আমরা রাজনৈতিক দল (পার্টি), ব্যান্ড পার্টি তো নই! আমাদের তো সরকার চালাতে হয়, বিল পাশ করাতে হয়।” কিন্তু রাজ্য সভাপতির এই মন্তব্যকে ঘিরেই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন আমজনতা ও নিচু তলার বিজেপি সমর্থকদের একাংশ। তাঁদের একাংশের প্রশ্ন—সরকার চালানো বা বিল পাস করানোর অছিলায় কি তবে দলের দীর্ঘদিনের নীতি-আদর্শকে বিসর্জন দেওয়া হবে? নেটিজেনদের একাংশ কটাক্ষ করে বলছেন, দলের রাজ্য সভাপতি পরোক্ষভাবে স্বীকারই করে নিলেন যে ক্ষমতার লোভে ও সরকার টেকানোর স্বার্থে যে কোনো দলবদলুকে কোল পাততে তাদের কোনো দ্বিধা নেই।

সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের পর কোয়েল মল্লিককে যেভাবে দলে এনেই সরাসরি উচ্চকক্ষের টিকিট দেওয়া হলো, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মূলত তিনটি কঠিন প্রশ্ন উঠেছে, যার সন্তোষজনক উত্তর শমীক ভট্টাচার্যের বয়ানে মেলেনি। বছরের পর বছর ধরে যেসব লড়াকু আদি কর্মী ও পদাধিকারীরা পুলিশের লাঠি খেয়ে, মাঠে-ঘাটে রক্ত ঝরিয়ে দলটাকে বাংলায় দাঁড় করালেন, তাঁদের অবদান কি শুধুই দলবদলু তারকাদের জন্য ওপরে ওঠার মঞ্চ সাজানো? তাঁদের মধ্যে কি একজনও রাজ্যসভায় যাওয়ার যোগ্য ছিলেন না? তৃণমূলের টিকিটে দিনের পর দিন সাংসদ পদ ভোগ করার পর হঠাৎ দলবদল করতেই এত বড় দাক্ষিণ্য কেন? এতে কি নিচু তলার কর্মীদের মনোবল চিরতরে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে না? ‘নেতার চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়’—শমীক ভট্টাচার্যের মুখ থেকে এই আদর্শের বুলি এখন নিচু তলার কর্মীদের কাছেও প্রহসন বলে মনে হচ্ছে। কারণ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, নবাগতরাই এসে দলের হর্তাকর্তা বনে যাচ্ছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট বক্সে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলছেন, “তৃণমূল করো, পদ ছাড়ো আর সরাসরি বিজেপিতে গিয়ে বড় পদ নাও—এই ওয়াশিং মেশিন সংস্কৃতির বিরুদ্ধে শমীকের সাফাই আসলে ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে”। সিপিএম এবং কংগ্রেসের মত বিরোধী শিবিরের নেতারাও এই সুযোগে সুর চড়িয়েছেন। সিপিএমের কটাক্ষ, “প্রাক্তন তৃণমূল হলেই এখন বিজেপিতে বেশি গুরুত্ব, আদি বিজেপি নেতাদের কোনো দাম নেই।” শমীক ভট্টাচার্যের “ব্যান্ড পার্টি নয়” মন্তব্যটি খোদ গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহলের ক্ষোভকে আরও উসকে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।

Exit mobile version