Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

রাজারহাটের মেগা মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক বিজেপির রাজ্য সভাপতি! “সব জায়গায় তোলাবাজি রুখেছি বললে ভুল হবে!”

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের শিল্প ক্ষেত্র থেকে সিন্ডিকেট ও তোলাবাজির সংস্কৃতি সমূলে উপড়ে ফেলতে লাগাতার প্রশাসনিক তৎপরতা চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আজ, ১ আগস্ট ২০২৬ (শনিবার) দুপুরে, কলকাতার রাজারহাটে অবস্থিত আইআইটি খড়গপুর রিসার্চ পার্কে (IIT Kharagpur Research Park) এক নজিরবিহীন ও অকপট মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য।

আইআইটি খড়গপুর এবং ‘বেঙ্গল ফার্স্ট’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত “উদ্যমী সমাগম” (Udyami Samagam) শীর্ষক একটি হাইপ্রোফাইল শিল্প ও ব্যবসায়িক সম্মেলনে প্রধান অতিথিদের অন্যতম হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেই মঞ্চ থেকেই রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ এবং নিচুতলার কিছু ফাঁকফোকর নিয়ে নিজের সততা বজায় রেখে শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেন, “যদি বলি সব জায়গায় তোলাবাজি বন্ধ করতে পেরেছি, তাহলে ভুল বলছি। এখনো কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিচ্যুতি রয়ে গিয়েছে, তবে আমাদের সরকার তা কঠোর হাতে দমন করতে বদ্ধপরিকর।”

রাজারহাটের এই মঞ্চে উপস্থিত রাজ্যের কয়েকশো উদ্যোক্তা, স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠাতা এবং শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করে রাজ্য সভাপতি অত্যন্ত কড়া বার্তা দেন। শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলায় ক্ষমতা পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্যই ছিল শিল্প ও ব্যবসার জন্য একটি ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি করা। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় পতাকা তোলাবাজির ঢাল হতে পারে না। তিনি স্পষ্ট করেন যে, পরিবহণ ডিপো বা রাজ্যের কোনো শিল্পাঞ্চলে যদি কেউ বিজেপির ব্যানার বা নাম ব্যবহার করে এক টাকাও অবৈধ দাবি করে, তবে পুলিশকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া আছে দলীয় পদ না দেখে তাকে সরাসরি গ্রেপ্তার করার জন্য। কারখানার গেটে বা ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে বিজেপির নামে কোনো বেআইনি ট্রেড ইউনিয়ন বা জুলুমবাজি বরদাস্ত করা হবে না, তা তিনি আজ পুনরায় মনে করিয়ে দেন।

আজকের এই ‘উদ্যমী সমাগম’ অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্যই ছিল “বিকসিত বাংলা থেকে বিকসিত ভারত” (Viksit Bengal towards Viksit Bharat) গড়ার লক্ষ্যে তরুণ উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা। এই অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আশ্বস্ত করা হয় যে বঙ্গে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় বিশেষ আইনি রক্ষাকবচ তৈরি করা হচ্ছে। নিজের দলের আমলেই খোদ রাজ্য সভাপতির এমন নির্ভীক ও বাস্তবসম্মত স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে বর্তমান বিজেপি প্রশাসন কোনো বিচ্যুতিকে আড়াল করার পক্ষে নয়, বরং তা স্বীকার করে পুরোপুরি নির্মূল করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। রাজারহাটের এই অনুষ্ঠান থেকে তাঁর দেওয়া কড়া বার্তা নিচুতলার কর্মীদের তোলাবাজির প্রবণতায় চূড়ান্ত রাশ টানবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Exit mobile version