প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতার রাজপথে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিবাদী মিছিল এবং পুলিশ-বিজেপি আঁতাঁতের গুরুতর অভিযোগের জবাবে এবার তীব্র আক্রমণ শানাল গেরুয়া শিবির। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, অপরাধীদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। একই সাথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাঁটার কর্মসূচিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “উনি হাঁটছেন হাঁটুন, ওটা ওনার শরীরের পক্ষে ও মনের পক্ষে ভাল।” তবে এরই পাশাপাশি তাঁর হুঁশিয়ারি, “অপরাধীদের স্থান হয় জেলের ভেতরে, আর না হলে আকাশের ওপরে।”
বুধবার তৃণমূলের কর্মসূচিকে তীব্র খোঁচা দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, এটি একটি গণতান্ত্রিক দেশ এবং এখানে লোকতান্ত্রিক ব্যবস্থা রয়েছে। সরকার কোনো কিছু জোর করে বন্ধ করছে না বা রাস্তায় পুলিশের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দিচ্ছে না। তৃণমূল নেত্রীকে ইঙ্গিত করে তিনি মন্তব্য করেন, উনি তো চিরকাল হাঁটার মধ্যেই ছিলেন, তাই ওনার বসে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে জনগণের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, তৃণমূলের মিছিলে আসল প্রতিবাদ দেখা যায়নি বলেই মানুষ ইতিমধ্যেই তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলে বিজেপি রাজ্য সভাপতি স্পষ্ট করেন, অপরাধী যে-ই হোক, তাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। যারা খুন বা ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ করেছে, তাদের পাতাল থেকে খুঁজে বের করা হবে। রাজ্যে অন্য রাজ্য থেকে শুটার নিয়ে আসার চল তৈরি হয়েছে দাবি করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শমীকের অভিযোগ, নির্বাচনের পর বিজেপি তাদের তিনজন কর্মীকে হারিয়েছে, যাদের তৃণমূল খুন করেছে। কিন্তু পাল্টা হিসেবে তৃণমূলের কোনো কাউন্সিলর, বিধায়ক বা সাংসদ আক্রান্ত হননি, তারা সুস্থ আছেন।
তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা চাইলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত এবং চাইলে পরিস্থিতি অন্যরকম করে দেওয়া যেতে পারে। সেটা মানুষও বোঝে, তৃণমূলও বোঝে।” তবে বিজেপি সুস্থ রাজনীতির পথেই বিশ্বাসী বলেই সেই হিংসার পথে হাঁটেনি বলে দাবি করেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগের জবাবে শমীক ভট্টাচার্যের এই “আকাশের ওপরে” পাঠানোর হুঁশিয়ারি রাজ্য রাজনীতিতে সংঘাতের পারদ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।
