প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতার ঐতিহ্যবাহী শিল্পকেন্দ্র ‘অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ প্রাঙ্গণে রাতারাতি গেরুয়া রং লাগানোর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে থিয়েটার ও বুদ্ধিজীবী মহলে। সংস্কৃতির এই পীঠস্থানে রাজনৈতিক রং লাগানোর চেষ্টার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন শহরের প্রবীণ নাট্যব্যক্তিত্বরা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবার দলের অন্দরেই কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শিল্প বা সংস্কৃতির দুনিয়ায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক খবরদারি বা জোরজুলুম বিজেপি সমর্থন করে না।
সম্প্রতি অ্যাকাডেমির টিকিট কাউন্টার এবং সিকিউরিটি রুমের দেওয়ালে থাকা পুরোনো ধূসর রঙের প্রলেপ মুছে সেখানে হঠাৎই গেরুয়া রং করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সেখানে ভারতমাতার একটি ছবিও বসানো হয়। কলকাতার এই ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে এমন পরিবর্তনকে ভালোভাবে নেয়নি নাট্যমহল। বিভাস চক্রবর্তী, চন্দন সেন, মেঘনাদ ভট্টাচার্যের মতো প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্বরা যৌথভাবে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সরাসরি বিজেপি রাজ্য সভাপতিকে একটি চিঠি পাঠান এবং হস্তক্ষেপের দাবি জানান।
চিঠি পাওয়া মাত্রই বিলম্ব না করে ময়দানে নামেন শমীক ভট্টাচার্য। দলের নীচুতলার কিছু কর্মীর এই ‘অতি-সক্রিয়তা’ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “যেখানে সেখানে গিয়ে দলের রং লেপে দেওয়া বিজেপির রাজনৈতিক কর্মসূচি বা নীতি কোনোটিই নয়। কিছু অতি-উৎসাহী লোক নিজেদের ‘অতি-বিজেপি’ প্রমাণ করতে এই কাজ করেছে। দল এদের কার্যকলাপ শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করবে।”
বিষয়টির গভীরতা বোঝাতে গিয়ে স্বভাবসিদ্ধ রসিকতার সুরে বিজেপি সাংসদ কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন— “ক্ষমতা আছে বলেই যদি আমরাও আগের সরকারের মতো যা খুশি তাই করতে শুরু করি, তবে মানুষ আমাদের মাথায় ডিম ছুড়ে মারবে। আমার বয়স হয়েছে, মাথায় চুলও কম। তাই মাথায় ডিমের আঘাত নেওয়ার কোনো শখ আমার নেই। এই ধরনের স্বৈরাচারী মানসিকতা বরদাস্ত করা হবে না।”
বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে এমন সোজাসাপটা এবং ইতিবাচক আশ্বাস মেলায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে নাট্যজগৎ। নাট্যব্যক্তিত্ব মেঘনাদ ভট্টাচার্য জানান, থিয়েটারের আঙিনায় সব দলের মানুষই আসেন, কিন্তু অ্যাকাডেমির মতো নিরপেক্ষ জায়গায় এর আগে কেউ রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেনি। শমীক ভট্টাচার্যের এই কড়া বার্তার পর অ্যাকাডেমির দেওয়াল থেকে বিতর্কিত ওই রঙের প্রলেপ সরানো হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর সবার।
