প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আর জি কর কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত তথা প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের দুর্নীতির সাম্রাজ্যে এবার বড়সড় ধাক্কা। সিবিআই জেলের অন্ধকার কুঠুরিতে বন্দি থাকা অবস্থাতেই সন্দীপ ঘোষের বেলেঘাটার বিলাসবহুল আবাসন নিয়ে এবার চূড়ান্ত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল কলকাতা পুরসভা। আর্থিক কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির পাহাড়প্রমাণ অভিযোগের পর, এবার তাঁর খাস বাসভবনের বেআইনি নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য মাত্র ৪৫ দিনের ডেডলাইন জারি করেছে পুর কর্তৃপক্ষ। আইন অমান্য করে ক্ষমতার দম্ভে গড়ে তোলা সন্দীপের এই সাম্রাজ্য এখন সম্পূর্ণ ভাঙার মুখে। বিজেপি শিবিরের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, রাজ্যে এতদিন ধরে চলা ক্ষমতার অপব্যবহার ও বেআইনি দুর্নীতির যে খেলা চলছিল, এটি তার পতনের শুরু মাত্র। দুর্নীতির টাকায় তৈরি কোনো বেআইনি কাঠামোই রেহাই পাবে না।
কলকাতা পুরসভার বিশেষ অফিসারের (বিল্ডিং) আদালতে চলা শুনানিতে সন্দীপ ঘোষের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই প্রমাণিত হয়েছে যে, ক্ষমতার শীর্ষে থাকার সময় আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তৈরি হয়েছিল এই বহুতল। তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুরসভার অনুমোদিত ম্যাপের (Sanctioned Plan) তোয়াক্কা না করে বাড়ির ছাদে বিশাল এক পারগোলা (অলঙ্কৃত ছাদ) তৈরি করা হয়েছে। লিফট মেশিন রুমে যাওয়ার জন্য নকশার বাইরে গিয়ে একটি বিশাল লোহার ঘোরানো সিঁড়ি বসানো হয়েছে। বহুতলের দ্বিতীয় তলে দরজার জায়গা বন্ধ করে ইটের দেওয়াল তুলে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নকশায় রদবদল করা হয়েছে।
বেলেঘাটার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বদন রায় লেনের এই বাড়িটি সন্দীপ ঘোষ ও তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা ঘোষের যৌথ মালিকানাধীন। শুনানির সময় সন্দীপের আইনজীবীরাও স্বীকার করতে বাধ্য হন যে, ছাদের অংশটি অনুমোদিত নকশায় ছিল না। সব পক্ষের তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে পুরসভার আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নোটিশ পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে ওই সম্পূর্ণ বেআইনি অংশটি ভেঙে সমূলে উপড়ে ফেলতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই কাজ না করা হলে, আইন অনুযায়ী পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
