Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

সায়নী-ইউসুফদের নিয়ে দিল্লিতে জোর জল্পনা? লোকসভার সংখ্যার খেলা ঘিরে নেটদুনিয়ায় শোরগোল!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে জল্পনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। আর সেই জল্পনায় যদি ঘি ঢালে সোশ্যাল মিডিয়া, তবে আলোচনা দাবানলের মতো ছড়াতে বাধ্য। সম্প্রতি নেটদুনিয়ার একটি বিশেষ মহলে তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কিছু হেভিওয়েট লোকসভা সাংসদকে নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক জল্পনা ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও এই খবরের কোনও অফিশিয়াল সোর্স বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি, তাও দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে এই ধরণের ‘তত্ত্ব’ বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশের দাবি, দিল্লির রাজনৈতিক বৃত্তে নাকি এক নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। জল্পনাকারীদের একাংশ দাবি করছেন, তৃণমূলের যুবনেত্রী তথা যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ, বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান, দক্ষিণ কলকাতার মালা রায় কিংবা আরামবাগের মিতালি বাগের মতো তারকা মুখেরা নাকি দিল্লির এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাসভবনে গিয়েছেন। গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে নাকি একান্তে বৈঠকও হয়েছে!নেটিজেনদের একাংশ আবার কৌতুক করে বলছেন— যারা জনসভায় দাঁড়িয়ে চড়া সুরে দিল্লির সমালোচনা করেন, তাঁদের নাম জড়িয়ে এই ধরণের জল্পনা রটা সত্যিই এক অদ্ভুত রাজনৈতিক প্রহসন!

এই জল্পনার পেছনে যে ‘স্ক্রিপ্ট’ ঘুরপাক খাচ্ছে, সেখানে মূল ফোকাস লোকসভার সংখ্যাতত্ত্বের ওপর। দাবি করা হচ্ছে যে তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ নাকি একজোটে পা বাড়াতে পারেন। আইন অনুযায়ী, দলত্যাগ বিরোধী আইনের (Anti-Defection Law) হাত থেকে বাঁচতে গেলে মোট সাংসদ সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। লোকসভায় তৃণমূলের বর্তমান ২৮ জন সাংসদের নিরিখে সেই ম্যাজিক ফিগারটি হলো ১৯। আর সেই কারণেই জল্পনাকারীরা সংখ্যাটিকে ‘২০’ বলে প্রচার করছেন, যাতে সাংসদ পদ খোয়া যাওয়ার কোনও আইনি জটিলতা না থাকে এবং লোকসভায় একটি পৃথক ব্লক তৈরি করা যায়।

তবে রাজনীতির বোদ্ধা এবং ওয়াকিবহাল মহল এই পুরো তত্ত্বটিকে স্রেফ ‘কাল্পনিক’ এবং ‘ভিত্তিহীন গুজব’ বলেই মনে করছেন। দিল্লির কোনও বড় সংবাদমাধ্যম বা জাতীয় স্তরের কোনও এজেন্সির রিপোর্টে এই ধরণের কোনও বৈঠকের খবরের দূরদূরান্তেও উল্লেখ নেই। সায়নী ঘোষ বা ইউসুফ পাঠানের মতো প্রার্থীরা দলীয় নেতৃত্বের অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং তাঁরা নিজেদের কেন্দ্রে দলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। ফলে তাঁদের দলবদল বা সমান্তরাল ব্লকের তত্ত্ব বাস্তব রাজনীতির ধারেকাছেও আসে না। অনেক সময়ই রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে বা বিভ্রান্তি ছড়াতে সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রোল পেজগুলোতে এই ধরণের কৃত্রিম জল্পনা তৈরি করা হয়, যা পরে পুরোপুরি ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়।

গণতন্ত্রে জল্পনা থাকবেই, কিন্তু যতক্ষণ না কোনও অফিশিয়াল বিবৃতি বা স্পিকারের দপ্তরের সিলমোহর মিলছে, ততক্ষণ এই ধরণের ভাইরাল খবরকে স্রেফ চায়ের আড্ডার বিনোদন ছাড়া অন্য কিছু ভাবা ভুল হবে। তবে প্রশ্ন একটাই— ধোঁয়া যখন উঠেছে, তখন এর পেছনে কি সত্যিই কোনও অদৃশ্য কাঠি রয়েছে, নাকি এটি স্রেফ বিরোধীদের ছড়ানো ‘পলিটিক্যাল ড্রামা’? সময় সব উত্তর দেবে।

Exit mobile version