Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বিজেপি নেতা ভাঙড় কলেজের মাথায় বসতেই আগুন! এসএফআই ও আইএসএফ-এর কোন চালে থমকে গেলেন সায়ন্তন?

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে সংঘাতের নতুন কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল শিক্ষাঙ্গন। ভাঙড় মহাবিদ্যালয়ের (Bhangar College) পরিচালন সমিতির নবনিযুক্ত সভাপতি তথা বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু প্রথমবার কলেজে পা রাখতেই ক্যাম্পাস জুড়ে তৈরি হলো নজিরবিহীন উত্তেজনা। সোমবার দুপুরে সায়ন্তন বসু কলেজে পৌঁছলে তাঁকে ঘিরে বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI) এবং বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকির দল আইএসএফ (ISF)-এর ছাত্র সমর্থকেরা তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

সোমবার দুপুরে যখন সায়ন্তন বসুর গাড়ি ভাঙ্গড় মহাবিদ্যালয়ের মূল গেটের সামনে আসে, তখনই একদল SFI এবং ISF সমর্থিত ছাত্রছাত্রী গেটের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সায়ন্তন বসুকে লক্ষ্য করে কালো পতাকা দেখানোর পাশাপাশি মুহুর্মুহু ‘গো ব্যাক’ স্লোগান উঠতে থাকে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাথায় রাজনৈতিক রঙ লাগিয়ে জোর করে বহিরাগতদের বসানো হচ্ছে। বিক্ষোভের জেরে দীর্ঘক্ষণ নিজের গাড়ির ভেতরেই কার্যত আটকে থাকতে হয় সায়ন্তন বসুকে।ঘটনার খবর পেয়েই সায়ন্তন বসুর সমর্থনে কলেজের বাইরে জড়ো হন আরএসএস অনুমোদিত ছাত্র সংগঠন এবিভিপি (ABVP)-র কর্মীরা। এক পক্ষ যখন ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিচ্ছিল, তখন পাল্টা স্লোগান দিতে শুরু করে গেরুয়া শিবির। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে কলেজ চত্বরে চরম উত্তেজনা ছড়ায় এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে ভাঙড় থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কলেজের মূল গেটের সামনে থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে রাস্তা সচল করতে পুলিশ তৎপরতা শুরু করে। পুলিশের কড়া পাহারায় বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ অবশেষে সায়ন্তন বসু কলেজের ভেতরে প্রবেশ করেন এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে পরিচালন সমিতির জরুরি বৈঠক সারেন।

বৈঠক শেষে কলেজ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সায়ন্তন বসু সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিক্ষোভের ঘটনাকে কিছুটা প্রশমিত করে দেখানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “আমি ভেতরে মিটিং করছিলাম, তাই বাইরে ঠিক কী হয়েছে আমি জানি না। আমার সামনে কোনো বিক্ষোভ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সরকার আমাকে একটি দায়িত্ব দিয়েছে, আমি সেই কাজ করতেই এসেছি।” তবে সায়ন্তন বসু ক্যাম্পাস ছাড়লেও ভাঙড়ের রাজনৈতিক উত্তাপ কমেনি। সুনির্দিষ্ট আইনি ও প্রশাসনিক নজরদারির মাধ্যমে কলেজের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

Exit mobile version