প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ডায়মন্ড হারবার ও বিষ্ণুপুরের পর এবার আরও এক থানায় আইনি বিপাকে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। মহেশতলার ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবিরে চিকিৎসা করাতে গিয়ে ভুল ওষুধের কারণে এক প্রবীণ মহিলার পা কেটে বাদ দেওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগ সামনে এল। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সহযোগী সুমিত রায়-সহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রবীন্দ্রনগর থানায় একটি লিখিত এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারিণী মালতী বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে অস্টিওআর্থারাইটিস বা হাঁটুর ব্যথার সমস্যায় ভুগছিলেন। সেই চিকিৎসার আশাতেই তিনি মহেশতলার ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরে যান। পরিবারের দাবি, সেখান থেকে দেওয়া কিছু ওষুধ খাওয়ার পর থেকেই ওই মহিলার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে এবং পায়ে অসহ্য যন্ত্রণা দেখা দেয়। পুনরায় শিবিরে যোগাযোগ করা হলে তাঁকে কলকাতার এম আর বাঙুর হাসপাতালে রেফার করা হয়।
সেখান থেকে দফায় দফায় কলকাতার চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট এবং পরে ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় রোগিণীকে। চিকিৎসকেরা জানান, ভুল চিকিৎসার জেরে মহিলার পায়ে মারাত্মক সংক্রমণ (Infection) ছড়িয়ে পড়েছে। শেষ পর্যন্ত রোগিণীর জীবন বাঁচাতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর ডান পা-টি কেটে বাদ দিতে বাধ্য হন চিকিৎসকেরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, এই ঘটনার পর তাঁরা একাধিকবার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের কোনও প্রকার সাহায্য করা তো দূর অস্ত, বিষয়টি নিয়ে কোনও গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। অবশেষে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সুবিচারের আশায় পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই অসহায় দম্পতি। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্যের স্বাস্থ্য ভবন স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত শুরু করেছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে সমস্ত নথিপত্র-সহ সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
